নোবেলজয়ীদের পেয়ে শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের বুকফাটা আর্তনাদ

আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দেবেন তিন নোবেলজয়ী

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের দেখতে যান শান্তিতে নোবেলজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মেরেইড ম্যাগুয়ার।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দুই নোবেলজয়ী তমব্রু কোনারপাড়া শূন্যরেখায় পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। রোহিঙ্গা নারীরা তাদের পেয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করে রাখাইনে নির্যাতিত হওয়ার কাহিনী তুলে ধরেন এবং অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

বারবার চষ্টো করেও নোবেলজয়ীরা রোহিঙ্গা নারীদের কান্না থামাতে পারছিলেন না। আবেগাপ্লুত নোবেলজয়ী দুই নারীও চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি। এ সময় অং সান সু চি ও মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দেবেন বলে জানান নোবেলজয়ীরা।

সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের শত শত সশস্ত্র সেনা, আর এপারে বিজিবির অবস্থান। দু'দেশের মাঝখানে বয়ে যাওয়া তমব্রু সীমান্ত খালের ওপারে ৬ মাস ধরে খেয়ে না-খেয়ে ঝুপড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক।

নোবেলজয়ী দুই নারী সেখানে পৌঁছলে খালের ওপার থেকে মিয়ানমার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত সাত নারীকে একটি পলিথিনের তাঁবুতে ডেকে আনা হয়।

নোবেলজয়ীরা রোহিঙ্গা নারীদের জড়িয়ে ধরে বলেন, তোমাদের আর কোনো ভয় নেই। সহায়-সম্পত্তি, বাড়ি-ভিটাসহ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে তোমাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে করা হবে।

তারা বলেন, অং সান সু চি একজন শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত নেত্রী হয়ে যে অমানবিক কাজ করেছেন, এজন্য তাকে এবং তার সেনা জেনারেলদের আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মিয়ানমার সেনা ও অং সান সু চির বিরুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ করবেন বলেও জানান। এজন্য প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের সহায়তা নেয়ার কথা জানান দুই নোবেল বিজয়ী।

রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা একান্তে আলাপ করেন দুই নোবেলজয়ী। আলাপ শেষে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের টিম লিডার হুসনেয়ারা বেগম যুগান্তরকে বলেন, নোবেল বিজয়ীরা জানতে চেয়েছেন মিয়ানমার সেনারা তাদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন চালিয়েছে?

নির্যাতনকালে সেনারা কী বলেছে? হুসনেয়ারা বলেন, মিয়ানমার সেনা, পুলিশ ও উগ্রবাদী সশস্ত্র রাখাইন যুবকরা রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যে ব্যভিচার, জুলুম আর নির্যাতন করেছে, তার বর্ণনা তুলে ধরলে নোবেলজয়ীরা তাদের জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন। এদিকে শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের নেতা দিল মোহাম্মদ ও মৌলভী আরফাত যুগান্তরকে জানান, ফিরে যাওয়ার আগে তাদের নিশ্চয়তা দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, গণগ্রেফতার ও বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার মতো ঘটনা আর না ঘটে।

এ ছাড়া ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গারা যাতে সমগ্র মিয়ানমারে অবাধে চলাচল করতে পারে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করতে পারে। এসব দাবি মেনে নেয়া হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি। তবে রোহিঙ্গাদের দেখাশোনা করার জন্য তারা সেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি কামনা করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter