বন্ধুর স্ত্রী-কন্যাকে খুনের পর গোসল করে রাইজুদ্দিন

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:০১ | অনলাইন সংস্করণ

রাইজুদ্দিন
গ্রেফতারকৃত রাইজুদ্দিন

শুধুমাত্র টাকার জন্য টাঙ্গাইলে বন্ধুর স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও তাদের চার বছরের মেয়েকে গলাকেটে খুন করে রাইজুদ্দিন। পুলিশে জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছে সে।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান টাঙ্গাইলে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।

রাইজুদ্দিন পুলিশকে জানায়, তিনি জানান, আলামিনের অনেক টাকা-পয়সা দেখে তার লোভ হয়। ঘটনার দিন রাতে রাইজুদ্দিন ছুরি নিয়ে ওই বাড়িতে যান। দরজা খুলে দেয়ার পর তিনি ঘরে ঢুকে প্রথমে লাকী বেগমকে ছুরিকাঘাত করেন।

এ সময় তার চার বছরের মেয়ে আলিফা এসে রাইজুদ্দিনকে চিনে ফেলে। তখন আলিফাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রাইজুদ্দিন। পরে ছুরিটি পাশের জমিতে ফেলে দিয়ে আট লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি চলে যান।

জিজ্ঞাসাবাদে রাইজুদ্দিন আরও জানায়, খুনের পর রাতে বাড়ি ফিরে গোসল করেন তিনি। পরদিন রোববার সকালে অন্য সবার সঙ্গে মা-মেয়ের লাশ দেখতে টাঙ্গাইল থানায় যান এবং প্রায় সব সময় নিহত লাকী বেগমের স্বামী আলামিনের সঙ্গে থেকে মামলা দায়েরের তদারকি করেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, রাইজুদ্দিন খুবই ধূর্ত প্রকৃতির লোক। ঘটনার পর তিনি খুবই স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন এবং মামলা দায়ের করার বিষয়ে তদারকি করতে পুলিশের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ভাল্লুককান্দী এলাকার ফ্ল্যাক্সিলোড ব্যবসায়ী আলামিনের ৭ মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রী লাকী বেগম (২২) ও তার চার বছরের শিশুকন্যা হুমায়রা আক্তার আলিফাকে শনিবার দিনগত গভীর রাতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও গলাকেটে করে হত্যা করা হয়।

ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি দক্ষিণ) তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। একইসঙ্গে ঘটনা উদঘাটনে সদর থানার পক্ষ থেকে একটি, গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পক্ষ থেকে একটি দল গঠন করা হয়।

মোট তিনটি পৃথক দল যৌথভাবে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও সোর্সিংয়ের মাধ্যমে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভার ভাল্লুককান্দি এলাকা থেকে সদর উপজেলার চরপাতুলীপাড়া গ্রামের মৃত সুকুম উদ্দিনের ছেলে রাইজুদ্দিনকে (৩৬) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×