১৮ দিনের সন্তান কোলে নিয়ে তুহিন হত্যার বিচার চাইলেন মা

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১০ | অনলাইন সংস্করণ

শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম
শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম

৫ বছরের শিশুপুত্র তুহিনকে তার বাবা আবদুল বাছির হত্যা করেছে- এ কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না মা মনিরা বেগম। ১৮ দিনের সন্তান কোলে নিয়ে দ্বিতীয় সন্তান তুহিনের হত্যার বিচার চান তিনি।

ছেলের নৃশংস খুনের পর বাকরুদ্ধ তুহিনের মা এখন বাবার বাড়িতে শয্যাশায়ী। মাত্র ১৫ দিন আগে এক কন্যাসন্তান জন্ম দেন তিনি। তুহিনের অপর দুই ভাই ও নবজাতক বোনকে নিয়ে কীভাবে চলবেন সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছেন এই হতভাগা মা।

বুধবার বিকালে দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে তুহিনের মা মনিরা বেগমের সঙ্গে কথা হয়।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তুহিন আমাদের আদরের সন্তান। তাকে হত্যায় তার বাবা জড়িত এ কথা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। তুহিন হত্যার ঘটনা কিছুতেই মানতে পারছি না আমি।

তিনি বলেন, আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এর মধ্যে তুহিন দ্বিতীয়। ১৮ দিন আগে আমার এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। দুই বছর বয়স থেকে তুহিন তার বাবার সঙ্গে ঘুমায়। কোনো দিন তুহিনকে মারধর করেননি তার বাবা। রোববার রাতে খেয়ে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি আমরা।

রাত ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাবার সঙ্গে ঘুমাচ্ছে তুহিন। ওটাই জীবিত তুহিনকে আমার শেষ দেখা। রাত আড়াইটার দিকে ঘরের দরজা খোলা দেখি। এরপর সবাই জেগে দেখি তুহিন নেই। তখন প্রতিবেশীদের ডাকা হয়। সকালে বাড়ির পাশে রাস্তায় একটি কদম গাছের ডালে তুহিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই আমরা। এরপর তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সঙ্গে তার বাবা ও চাচাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মনিরা বেগম আরও বলেন, ‘আমি জানি না কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। মানুষের কাছে শুনছি তুহিনকে তার বাবা হত্যা করেছে। তবে আমি কারও কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। যে তুহিন দুই বছর ধরে বাবার কোলে ঘুমাতো সে তুহিনকে ঘরের বাইরে নিয়ে কোলের ওপর হত্যা করতে পারে না বাবা, এটি বিশ্বাস হয় না আমার।’

তুহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেছেন তুহিনের মা মনিরা বেগম। এই মামলায় তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, জমসেদ, নাছির ও চাচতো ভাই শাহরিয়ারকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া কেজাউড়া গ্রাম থেকে তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে গ্রামের আবদুল বছির মিয়ার ছেলে।

হত্যাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির কান, গলা ও প্যানিশ কেটে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। শিশুটির পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ধারালো ছুরি। শিশুর মরদেহে বিদ্ধ ছোরা দুটির হাতলে সোলেমান ও সালাতুলের নাম লেখা ছিল।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×