ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা হাতিয়েছেন যুবক

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়েছেন যুবক
নিজের অপরাধের কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করছেন মাহফুজুর রহমান নবিন। ছবি-সংগৃহীত

অনেক অনুসন্ধানের পর বুধবার (১৫ অক্টোবর) র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন সাইবার অপরাধী মাহফুজুর রহমান নবিন (২৮)।

তাকে গ্রেফতারের পর একে একে উঠে আসছে তার অপরাধের সব ভয়ঙ্কর চিত্র।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার উদ্ভাবনী সব প্রতারণা কৌশল এবং ভয়ঙ্কর অপরাধ প্রবণতার কথা জেনে হতবাক হয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারাও।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, মিডিয়াকর্মী, সেলিব্রেটি থেকে শুরু করে ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং গৃহিণী কারও ফেসবুক আইডি হ্যাক করার বাকি নেই তার।

অগণিত ফেসবুক আইডি হ্যাক করে তাদের ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অশ্লীল ছবি বা ভিডিও তৈরি করে পাঠিয়ে কারও কারও সংসারও ভেঙেছেন।

এ অপরাধ করেই ক্ষান্ত হননি কখনও আবার র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মানুষকে হুমকি-ধমকিও দিয়েছেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়েছেন লাখো কোটি।

সাইবার অপরাধী মাহফুজুর রহমান নবিন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার তিতারকোনা মামদনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত ইজাজুর রহমান।

আটকের পর নবিনের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৯ এর সিলেটের এসআই পঙ্কজ দাশ বাদী হয়ে সাইবার অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নবিনকে বাহুবল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সেই মামলায় নবিনের বিরুদ্ধে রয়েছে অনেক অভিযোগ।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৯ সিলেটের অপারেশন অফিসার (এএসপি) আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, আটক নবিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো হলো- অন্যের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বা আইডি ডিজেবল করে দেয়ার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত করা, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ উপার্জন, অনলাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও বিদেশি সরকার প্রধান সম্পর্কে নোংরা, কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা মন্তব্য ছড়ানো, অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে বিভিন্ন জনের মাথা জুড়ে দিয়ে ছবি ও ভিডিও বানিয়ে সেটি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং, মোবাইল ও অনলাইনে পর্নোগ্রাফি কন্ট্যান্ট বহন, স্থানান্তর ও ছড়িয়ে দেয়া।

নবিনের বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে জানিয়ে (এএসপি) আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, সাইবার অপরাধী নবিনের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে।

কয়েক মাসের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টায় এ ধূর্ত অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারী নারীদের বেশি টার্গেট করে এই অপরাধী চক্র।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর নবিন প্রথমে আইডির মালিককে মানসিক চাপ দেয়ার উদ্দেশ্যে আইডিতে থাকা একান্ত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টস বিভিন্ন জনকে পাঠিয়ে দিতে থাকেন। তারপর ধারাবাহিকভাবে হ্যাককৃত আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন, সম্ভাব্য সব উপায়ে আইডির মালিকের সম্মান বিনষ্ট করা এবং সবশেষে এ আইডিগুলো ব্যবহার করে বিভিন্নমুখী, বিচিত্র প্রতারণার জাল বিস্তার করাই ছিল তার পেশা।

র‌্যাবের দাবি, আটক নবিন অসংখ্য নারীকে টার্গেট করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে তাদের মাথা জুড়ে দিয়ে চরিত্র হনন এবং তাদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। এভাবে তিনি স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতেন। পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দিতেন দীর্ঘ দিনের সাজানো সংসার। এ ছাড়া টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ফরমায়েশ নিয়েও তিনি এ কাজটি করতেন। তার ছবি বিকৃতির তালিকা থেকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা বিদেশি সরকারপ্রধানরাও বাদ পড়েননি।

মামলার এজাহারের সঙ্গে তার অপরাধের ১৩৯ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যা ব সূত্র।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এ পর্যন্ত র‌্যাবের কর্মকর্তা, টেলিভিশন উপস্থাপিকাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক এবং একই নাম ও ছবি ব্যবহার করে আইডি বানিয়ে তাদের ব্যক্তি ইমেজ ব্যবহার করে অভিনব সব উপায়ে সাইবার অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নবিন।

চিত্রনায়িকা মৌসুমী, সংগীত শিল্পী কৌশিক হাসান তাপসসহ আরও অনেকেরই ফেসবুক আইডি হ্যাক করার জন্য তিনি টার্গেট করেছিলেন মর্মেও প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তারা।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: j[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×