হামলা থেকে রক্ষায় মন্দিরের নিরাপত্তায় হাটহাজারী মাদ্রাসাছাত্ররা

  আবু তালেব, হাটহাজারী থেকে ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

হামলা থেকে রক্ষায় মন্দিরের নিরাপত্তায় হাটহাজারী মাদ্রাসাছাত্ররা
ছবি: সংগৃহীত

ভোলার ঘটনার জেরে হাটহাজারীতে বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড দিয়ে মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। রোববার বিকালে বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদ্রাসা ছাত্রদের এ উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সাধারণ তৌহিদি জনতার বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।

এ সময় পার্শ্ববর্তী সীতাকালী মন্দিরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের রুখে দেয় এবং মন্দিরে হামলা তথা যাতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে না পারে এ জন্য তারা বেশ জোড়ালো ভূমিকা পালন করে।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার ভোলার বোরহানুদ্দিনে মহানবী (সা.) ও আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে কটূক্তিকারীর শাস্তি ফাঁসির দাবি ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ ও নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার সামনে মাদ্রাসার বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে হাটহাজারী মাদ্রাসার সম্মুখে, হাটহাজারী বাজার, মেডিকেল গেট, ভূমি অফিসের সামনে, কলেজ গেট ও বাসস্টেশন এলাকার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

এ সময় বাসস্টেশন চত্বরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মাগরিবের নামাজ আদায় ও অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে। হঠাৎ ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় পৌঁছায় প্রায় ৩০টি রুটের হাজার হাজার যাত্রীসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

অবরোধের ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া হাটহাজারী বাজারের শত শত দোকান-পাট বন্ধ করে দোকানিরা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা গেছে।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে হাটহাজারী মডেল থানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মূল ফটক ও কাচের দরজা এবং জানালার কাচ ভাংচুর করে। এ সময় তারা পার্শ্ববর্তী সীতাকালী মন্দিরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের রুখে দেয় এবং মন্দিরে হামলা তথা যাতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে না পারে এ জন্য তারা বেশ জোড়ালো ভূমিকা পালন করে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার পাশেই অবস্থিত মন্দিরটির নিরাপত্তায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত হয়ে আসছে। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে আগে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।

বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচায়ক হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করছে দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার বাইতুল করিম নামে প্রধান জামে মসজিদ প্রকাশ ‘বড় মসজিদ’ এবং ‘শ্রী শ্রী সীতাকালী কেন্দ্রীয় মন্দির’।

মসজিদ ও মন্দিরে শুধু এক দেয়ালের ফারাক। যা শুধু এ দেশে নয়, বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির।

প্রায় শত বছরের পুরানো এ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে পূজা-অর্চনা করে আসলেও এ নিয়ে কারও মধ্যে কোনো বৈরি অবস্থা তৈরি হয়নি।

সীতাকালী মন্দির পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি উদয় সেন বলেন, বহির্বিশ্বে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটলেও এ উপজেলার চিত্র ছিল ব্যতিক্রম। শুনেছি, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময়ও এখানে একে-অপরের ওপর হামলা তো দূরে থাক, উল্টো মাদ্রাসার ছাত্ররাই পাহারা দিয়ে মন্দিরকে রক্ষা করেছেন। শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম যার যার অবস্থানে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হাটহাজারী মাদ্রাসা। ১১৯ বছরের ইতিহাসে হিন্দু সম্প্রদায় ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ইতিহাস নেই।

এমনটা দাবি করে হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি জসিম উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, শত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসার সীমানা দেয়ালের সঙ্গে গড়ে উঠেছে কালী মন্দির। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই ধর্মের অনুসারীরা সহাবস্থানে থেকে যার যার মতো করে ধর্মীর আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। ভিন্ন ধর্মের দুটি প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি থেকে যার যার মতো করে ধর্মীয় রীতি পালন করছেন তারা। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অসাধারণ একটি উদারহরণ।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×