কিশোরগঞ্জে লটারির নামে মোবাইল সিমকার্ড প্রতারণা!

  কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:১৯:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে লটারির মাধ্যমে প্রতারণা করে সহস্রাধিক লোকের নামে মোবাইল সিমকার্ড উত্তোলন করেছে একটি চক্র।

বিভিন্ন পণ্য দেয়ার প্রলোভনে আঙ্গুলের ছাপ ও এনআইডি কার্ডের নম্বর নিয়ে তাদের নামে সিমকার্ড উত্তোলন করা হয়।

দুষ্কৃতকারি ও রোহিঙ্গাদের কাছে এ সব সিমকার্ড বিক্রি হওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সদর ইউনিয়নের মুশা, পুষণা ও চাঁদখানা ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামে।

প্রতারক মোস্তাফিজার রহমান মোবাইল ট্যাব ও ফিঙ্গার মেশিন রেখে কৌশলে সটকে পড়েছে।

ঘটনার শিকার ওই এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষ সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিন জানা গেছে, মাগুড়া ইউনিয়নের উত্তর সিঙ্গেরগাড়ি নাটুয়াপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজার রহমান এ চক্রের অন্যতম সদস্য। রংপুর থেকে মাঝে মধ্যে তার স্যার এসে লটারি বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়ার কথা জানান।

শাড়ি, লুঙ্গি, ছাতা ও মোবাইলফোন দেয়ার প্রলোভনে তিনি ওই এলাকায় লটারির গ্রুপ তৈরি করেন। পরে সদস্যদের এনআইডি নম্বর ও ফিঙ্গার মেশিনে দুই হাতের আঙ্গুলের একাধিকবার ছাপ নেন।

পরদিন এসে দুই একজনকে শাড়ি লুঙ্গি দিয়ে জানান, লটারিতে তোমাদের নাম উঠেছে। পুরুষদের চেয়ে মহিলারা আঙ্গুলের ছাপ ও ভোটার আইডি নম্বর দিয়ে লটারিতে পণ্য নেয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। বিনা টাকায় লটারিতে এভাবে বিভিন্ন পণ্য দেয়ার ঘটনা এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়।

রংপুর টেলিটক অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পান, লটারির মাধ্যমে প্রতারণা করে সদস্যদের প্রত্যেকের নামে একাধিক সিমকার্ড উত্তোলন করেছেন। ইঙ্গিত পেয়ে শনিবার মুশা গ্রামের এরশাদের কাছে ফিঙ্গার মেশিন, মোবাইল ট্যাব ও কাগজপত্র রেখে মোস্তাফিজার ও তার দুই সহযোগী পালিয়ে যান।

সদর ইউনিয়নের মুশা শফিমিয়ারপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তার, মঞ্জিলা বেগম, হালিমা বেগম জানান, লটারির নামে আমাদের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে সে সিমকার্ড তুলেছে। এ সব সিমকার্ড নাকি দুষ্কৃতকারি ও রোহিঙ্গাদের দিবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা, আতংকে অনেকের স্বামী-স্ত্রী কলহ সৃষ্টি হয়েছে।

নূরল হক জানান, রংপুর টেলিটক অফিসে গিয়েছিলাম, আমি ও আমার স্ত্রীর নামে তারা ৭টি সিমকার্ড তুলেছে। ঘটনা জটিল, ভোটার আইডি কার্ডসহ আবারও রংপুর যেতে হবে।

পুষণা তমিজ মিয়ারপাড়া গ্রামের আবদুস সবুর, ফুলতি বেগম, রোকেয়া বেগম ও লাইজু বেগম যুগান্তরকে জানান, প্রত্যেকের ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ও তিন-চারবার করে আঙ্গুলের ছাপ নিয়েছে। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রত্যেকের নামে একাধিক মোবাইল সিমকার্ড তুলেছে। এ সব সিমকার্ড দিয়ে কোনো কিছু ঘটলে আমাদের কী হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছি।

উত্তর চাঁদখানা মুন্সিপাড়া গ্রামের মজিদুল ইসলাম, বিলকিছ আক্তার ও তরিকুল ইসলাম জানান, চাকরি হওয়ার কথা বলে মোস্তাফিজার রহমান আমাদের এলাকায় অসংখ্য লোকের ভোটার আইডি নম্বর ও আঙ্গুলের ছাপ নিয়েছে। এভাবে মোবাইল সিমকার্ড উত্তোলনে প্রতারণার ঘটনা শুনে সবাই আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোনে তার বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, আমার ছেলের এ ঘটনা শুনেছি, পরশুদিন থেকে সে বাড়িতে নেই। পাড়ার কয়েকজন ছেলে দীর্ঘদিন ধরে এ সব কাজ করে। সে তাদের খপ্পরে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় ওই এলাকা থেকে বেশকিছু লোকজন এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। নির্বাচন অফিসারকে ঘটনা খতিয়ে দেখতে বলেছি। প্রত্যেককে থানায় জিডি করে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত