শিশু তুহিন হত্যা: বাবা ও দুই চাচা ফের রিমান্ডে

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

শিশু তুহিন

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে চাঞ্চল্যকর তুহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা ও চাচাকে আবারও রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

তুহিনের পিতা আবদুল বাসিরকে পাঁচদিন ও দুই চাচাকে তিনদিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সোমবার বিকাল ৫টায় সুনামগঞ্জ জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দিরাই থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিহত শিশুর পিতা আবদুল বাসির ও চাচা আবদুল মোছাব্বির ও জমশেদ আলীকে আদালতের কাছে সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত আবদুল বাসিরকে পাঁচদিন এবং দুই চাচাকে তিনদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আবারও রিমান্ডে আনা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার পিতা আবদুল বাসির ও দুই চাচাকে তিনদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

এ দিকে ১৫ অক্টোবর নিহতের আরেক চাচা নাসির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার ঘটনার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য, ১৩ অক্টোবর রাতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে রাতের আঁধারে ঘর থেকে তুলে নিয়ে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘাতকরা তার লাশ রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

দুর্বৃত্তরা তুহিনের পেটে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে রাখে। দুটি কান ও এমনকি যৌনাঙ্গটিও কেটে ফেলা হয় নিষ্পাপ শিশুটির।

এ ঘটনায় প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে বাবা, চাচা, চাচি, চাচাতো বোন ও চাচাতো ভাইকে আটক করে পুলিশ। পরে পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে চাচি ও চাচাতো বোনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় তুহিনের বাবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।