কুমিল্লায় শিশুকে গলাকেটে হত্যা, ৪ দিনেও ঘাতকরা চিহ্নিত হয়নি

  কুমিল্লা ব্যুরো ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

মেহেদি হাসান রিফাত
মেহেদি হাসান রিফাত। ফাইল ছবি

কুমিল্লায় মেহেদি হাসান রিফাত নামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রকে গলাকেটে হত্যার চারদিন পেড়িয়ে গেলেও এখনও ঘাতককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার রাতে শহরতলীর আড়াইওরা এলাকায় প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ওই শিশু ছাত্রকে তুলে নিয়ে গলাকেটে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের চারদিনেও ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

মেহেদী হাসান রিফাত (৯) ওই এলাকার প্রবাসী আলমগীর হোসেনের ছেলে। সে নর্থ সাউথ চাইল্ড একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এদিকে একমাত্র সন্তানের এমন হত্যার খবর শুনে প্রবাস থেকে চলে আসেন পিতা আলমগীর হোসেন। ছেলের কবরের পাশে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন তিনি।

জানা গেছে, শনিবার রাতে শহরতলীর আড়াইওরা এলাকায় নিজ বাসার অদূরে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হন শিশু স্কুলছাত্র মেহেদি হাসান রিফাত। সময় মতো বাসায় না ফেরায় স্বজনরা তাকে প্রাইভেট মাস্টারের বাড়িতে খুঁজতে যান। তাকে না পেয়ে স্বজনরা এদিক_সেদিক খুঁজতে থাকেন। পরে রাতেই এলাকার একটি পুকুর থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ হৃদয় নামে সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেফতার করলেও জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য উদঘাটন হয়নি।

চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় এবং গণমাধ্যমে ফলাও করে খবর প্রকাশিত হলেও পুলিশ এ ঘটনায় জড়িতদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি।

এ দিকে পারিবারিক পূর্ব বিরোধ-দ্বন্দ্ব এবং পরিবারের সদস্যদের নানা বিরোধপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে গুরুত্ব দিয়ে এ মামলার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। বেশকিছু আলামত সংগ্রহে নিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তবে যে পুকুর থেকে রিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেই পুকুরের পানি সিচেও রিফাতের স্কুল ব্যাগ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি কিংবা অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ আরও কিছু আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করছে তদন্ত কর্মকর্তা।

রিফাতের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, আমি একজন প্রবাসী এলাকার কোনো লোকের সঙ্গে আমি কখনও ঝগড়া-বিবাদে জড়াই না, কী কারণে আমার কলিজার টুকরা সন্তানকে ঘাতকরা এমন নির্মমভাবে হত্যা করল জানি না। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক জানান, রিফাত হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আমরা তদন্ত করছি এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক শনাক্তে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই মাঝে বেশ কয়েক দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পূর্বে কোনো বিরোধ আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছি। আশা করি শিগগিরই এর ক্লু উদ্ধার করতে আমরা সক্ষম হব।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×