পদ্মার একদিকে ইলিশ নিধন, অন্যদিকে চলছে অভিযান

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

পদ্মা নদীতে চলছে ইলিশ নিধন

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীতে একদিকে চলছে ইলিশ নিধন। অন্যদিকে চলছে অভিযান।

উপজেলার কালিদাশখালী, চকরাজাপুর, দিয়াড়কাদিরপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, আলাইপুর, কিশোরপুর, মীরগঞ্জ এলাকায় মা ইলিশ ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতে ইলিশ শিকার হয় বেশি।

জানা গেছে, পদ্মা নদীতে বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এক দফা নদীতে জাল ফেলে সন্ধ্যায় জাল তুলে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। রাতে আরেক দফা নদীতে জাল ফেলে সকালে মাছ নিয়ে তীরে আনা হয়।

কেউ নৌকা থেকে নামিয়ে নদীর তীরের ঝোঁপ-জঙ্গলে ও কচুরিপানার মধ্যে মাছ লুকিয়ে রাখাছে। কিছু ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে গিয়ে এ সব মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

এ দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন পুলিশ ও বিজিবি সঙ্গে নিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। ২৬ কিলোমিটার পদ্মার সীমানা হওয়ায় একদিকে অভিযানে গেলে অন্যদিকে অসাধু জেলেরা জাল দিয়ে মাছ শিকার করছেন বলে জানা মৎস্য কর্মকর্তা।

বুধবার সকাল ৮টায় সরেজমিন দেখা গেছে, পদ্মা থেকে ইলিশ শিকার করে আসা নৌকাগুলো সারিবদ্ধভাবে কালিদাশখালী মৌজায় চকরাজাপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে নোঙর করে আছে। নোঙর করা প্রতিটি নৌকায় মাছ সংরক্ষণ করার বাক্স আছে। তারা খুব সাবধানে জেলের শিকার করা ইলিশ মাছ বের করে দিচ্ছেন ক্রেতাদের।

আলাইপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদী পাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমের দিকে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। অনেক ক্রেতাই ঘাট থেকে এ সব ইলিশ কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে জাল ও ইলিশ আটক করলেও থেমে নেই ইলিশ ধরা। অভিযান পরিচালনার আগেই খবর পৌঁছে যাচ্ছে জেলেদের কাছে। নিষিদ্ধ এ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি বন্ধে যারা কাজ করবে, তাদের সহযোগিতায়ই নদীতে অবাধে মা ইলিশ শিকার করছে জেলেরা।

এ বিষয়ে রহমান খান নামের এক জেলে জানান, সারা বছর মাছ ধরার কাজ করে সংসার পরিচালনা করি। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চলে এ মাছ ধরার আয় থেকে। বর্তমানে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় নিরুপায় হয়ে পড়েছি।

সাহাবাজ নামের আরেক জেলে জানান, এলাকার বেশিরভাগ জেলে প্রতিদিনের রোজগার দিয়েই সংসার চালায়। মাছ সরবরাহ ভালো থাকলে আয়ও ভালো হয়। মাছ না ধরলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। নিষিদ্ধ সময়ে মাত্র ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বাঘা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাট-বাজারে কোথাও ইলিশ বিক্রি হচ্ছে না। তবে চুরি করে কিছু জেলে মাছ ধরছে। ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মার নদীতে এ অভিযান চলবে।

তিনি জানান, ৯-২৩ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ১৬টি অভিযান ও ৫টি মোবাইল কোট পরিচালনা করে ৭৪ কেজি ইলিশ মাছ, ৪৭ হাজার মিটার জাল, ১১ জেলের জরিমানা, ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যেই কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকার করছে।