‘আলু ভর্তার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ২ দফায় হাবিবের গলা কেটেছি’

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

আসামি আল মামুন। ছবি: যুগান্তর

যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গুয়াখোলায় রং মিস্ত্রী হাবিবুর রহমান হাবিব খান হত্যার রহস্য উন্মোচন ও প্রধান আসামি ঘাতক আল-মামুনকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। 

হত্যার অভিযোগে শুক্রবার ঢাকার আশুলিয়া থেকে আল-মামুনকে আটক করা হয়। আটককৃত মামুন মাগুরা জেলার ডাঙ্গা-সিঙ্গিয়া গ্রামের হাবিব মোল্যার ছেলে। 

শনিবার বিকালে অভয়নগর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১২ দিন পর শুক্রবার প্রধান আসামি আল-মামুনকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। 

থানা হেফাজতে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে আল-মামুন বলেছে, সে একাই একটি ছোরা দিয়ে রং মিস্ত্রী হাবিবকে গলা কেটে হত্যা করেছিল। পরে তার লাশ গুম করার জন্য ওই ভবনের নিচ তলায় পানির রিজার্ভ ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিল। 

শুক্রবার রাতে থানা হেফাজতে থাকা আল-মামুন বলেন, প্রায় এক বছর আগে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বাবা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর আমি খুলনায় চলে আসি। কাজের সন্ধানে সম্পর্ক হয় রং মিস্ত্রী হাবিব খানের সঙ্গে। এরপর হাবিবের সহযোগী হিসেবে রংয়ের কাজ শুরু করি।  

উপজেলার নওয়াপাড়ার সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান আলমগীর সরকারের গুয়াখোলাস্থ নবনির্মিত সাততলা ভবনের রংয়ের কাজ করার সময় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হাবিবের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আমি ও হাবিব ছাড়া আর কেউ থাকত না। 

কাজ করা বাবদ হাবিবের কাছে ৫ হাজার ২০০ টাকা পাওনা ছিল। গত ১৩ অক্টোবর রোববার দুপুরে সেই টাকা চাইলে হাবিব আমাকে মাত্র পাঁচশত টাকা দেন। সব টাকা চাইলে আমাকে বটি দিয়ে কোপাতে আসে। তখনই আমি হাবিবকে খুন করার পরিকল্পনা করি। 

এ সময় মামুন আরও জানায়, পরদিন রোববার বাজার থেকে ১০ পিস ঘুমের ট্যাবলেট ক্রয় করি। সেই ট্যাবলেট রাতে আলু ভর্তার সঙ্গে মিশিয়ে হাবিবকে খাওয়াই। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাত আনুমানিক ২টার সময় লুকিয়ে রাখা চাকু দিয়ে ঘুমে অচেতন অবস্থায় রংমিস্ত্রী হাবিবকে আমি দুই দফায় গলা কেটেছি।

পরে নিচ তলার পানির রিজার্ভ ট্যাংকে তার হাত ও পায়ে ইট বেঁধে ফেলে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলি এবং চাকুটি দুই তলার একটি বাথরুমের কমোডে ফেলে পানিতে ফ্ল্যাশ করি। রক্তমাখা জামাকাপড়গুলো কার্নিশে লুকিয়ে রেখে গোসল করে ভোররাতে ভবনের পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যাই। 

সকালে বাসে করে প্রথমে চুড়ামনকাঠি খালাবাড়ি যাই এবং পরে নড়াইলের লোহাগড়ায় দাদাবাড়িতে একদিন থাকি। পরদিন ঢাকার আশুলিয়ায় ফুফুর বাড়িতে চলে যাই। 

উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের পাঁচদিন পর গত ১৯ অক্টোবর শনিবার এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান ভবন মালিক আলমগীর সরকার অভয়নগর থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ওই ভবনের নিচতলায় পানির রিজার্ভ ট্যাংক থেকে রং মিস্ত্রি হাবিব খানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। 

পরদিন নিহতের ভাই বাদী হয়ে আল-মামুনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত রং মিস্ত্রী হাবিব খান (৪০) ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার দপদবিয়া গ্রামের মৃত আবদুল আজিজ খানের ছেলে।