ভালুকায় কোচিং করতে এসে চোখ হারাল সমাপনী পরীক্ষার্থী

  ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

সুবর্ণা আক্তার
সুবর্ণা আক্তার। ফাইল ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোচিং করতে গিয়ে সতীর্থদের কাঁচির আঘাতে চোখ হারাতে বসেছে সমাপনী পরীক্ষার্থী সুবর্ণা আক্তার (১১)।

শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের কক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুবর্ণা আক্তার (১১) কোচিং ক্লাস করতে গেলে তার সতীর্থরা কাঁচির ঘা দিয়ে তার চোখ নষ্ট করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো আঙ্গারগাড়া গ্রামের আবদুল হাকিমের একমাত্র মেয়ে সুবর্ণা আক্তার কোচিং করার জন্য সকাল সাড়ে ৮টার সময় স্কুলের আসে। এ সময় সুবর্ণার সহপাঠী মুন্না, আসিফ, মিজান, রাব্বি, রাকিব,সজীব, সুমন ও ইশতিয়াক স্কুলের উত্তর পাশের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে সিগারেট পান করছিল।

এ সময় সুবর্ণা তার বান্ধবীরা পাশের কক্ষের সহপাঠীদের সিগারেট পান করার দৃশ্য ভাঙ্গা দরজার ফুটো দিয়ে বারবার দেখছিল। যখন সুবর্ণা দরজার ফুটো দিয়ে দেখছিল তখন মুন্না ও আসিফ কাঁচি দিয়ে ঘা দিলে সুবর্ণা বাম চোখে আঘাত লাগে।

এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে পাশেই আঙ্গারগাড়া বাজারে তার বাবা চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সুবর্ণার বাবা তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ভালুকায় তার চোখের অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। রোববার সকালে চক্ষু বিভাগের ডাক্তার সুবর্ণার চোখ অপারেশ করেন।

ডাক্তার জানান, সুবর্ণার বাম চোখ অন্ধ হয়ে গেছে সে আর ওই চোখে কিছুই দেখবে না।

ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, তাদের ক্লাসে মোট ৫৩ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। স্কুলের ক্লাস শুরু হওয়ার পূর্বে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সায়ের মেম্বারের ছেলে শাহীন নামে এক ব্যক্তি ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করাত। বিনিময়ে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। সেই কোচিং ক্লাস করার জন্য সুবর্ণা এসে ছিল।

সুবর্ণার বাবা আবদুল হাকিম জানান, আমি একজন চা বিক্রেতা আমার একমাত্র মেয়েকে শত্রুতা করে ঘা দিয়ে চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। অপারেশনের পর ডাক্তার জানিয়েছেন সে ওই চোখে আর দেখবে না। আমার মেয়েটি কোচিং করতে এসে চোখ হারাল। মেয়ের অপারেশন শেষ হয়েছে, আজকে এসে আমি এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিব।

আঙ্গারগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফায়েল আহম্মেদ জানান, কিসের আঘাতে সুবর্ণা চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে আমি জানি না। কে করেছে সেটাও জানি না।

কোনো চোখে আঘাত পেয়েছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ডান পাশ না বাম পাশ সেটা মনে করতে পাচ্ছি না।

উপজেলা প্রাথমিক অফিসার জুয়েল আশরাফ জানান, আমি তো কিছুই জানি না। হেড মাস্টার তো কিছুই বলেননি।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×