ময়মনসিংহে ট্রলি ব্যাগে পাওয়া সেই খণ্ডিত লাশটি বকুলের

  ময়মনসিংহ ব্যুরো ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন

ময়মনসিংহ শহর সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের কাছে গত ২১ অক্টোবর রেখে যাওয়া সেই ট্রলি ব্যাগে পাওয়া যুবকের খণ্ডিত লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে এ হত্যারহস্য উদঘাটন করেছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন।

‘এটা তার জীবনের সেরা ডিটেকশন’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই যুবকটি প্রেমঘটিত কারণে অথবা বোনকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় ভাইদের হিংসার বলি হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনসে দরবার হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির নাম বকুল (২৮)। তিনি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার হুগলা গ্রামের ময়েজউদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রতিবেশী এক মেয়েকে (১৮) ভালোবাসতেন অথবা তাকে উত্ত্যক্ত করতেন।

পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, পরবর্তীতে জনৈক আবু সিদ্দিকের সঙ্গে ওই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও বকুল তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। এরই জেরে মেয়েটির দুই ভাই এবং ভাবিকে নিয়ে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার বাঘেরবাজার বানিয়ারচালায় (জনৈক লিটন ডালীর ভাড়া বাসার ভাড়াটিয়া) বকুলকে হত্যার পর পলিথিনে মুড়িয়ে দুটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর ঢোকায়। ওই চারজনই ময়মনসিংহে এসে পাটগোদাম ব্রহ্মপুত্র নদের ব্রিজের পাশে একটি লাল ট্রলি ব্যাগ রেখে যায়। অন্য ব্যাগটি নিয়ে দুইজন কুড়িগ্রামের কৃষ্ণপুর মিয়াপাড়া গ্রামে চলে যায়। সেখানে দুটি পৃথক স্থানে খণ্ডিত দেহ ফেলে তারা গাজীপুরের বানিয়ারচালায় ফিরে আসে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সহোদর তিন ভাইবোন ও এক ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়। এরা চারজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন জানান, গত ২১ অক্টোবর কে বা কারা ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের কাছে একটি লাল ট্রলি ব্যাগ রেখে যায়। ব্যাগের সাইজ ও ওজন সন্দেহজনক হওয়ায় ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল টিম এসে ব্যাগটি খুলে হাত-পা ও মাথাবিহীন একটি দেহ উদ্ধার করে। খবরটি চাউর হলে সর্বত্রই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সদর উপজেলায় একটি পা উদ্ধারের খবর জানান। পরদিন ১০ কিলোমিটার দূরে কুড়িগ্রামের রাজাপুরে একটি ব্যাগে কাটা পা, দুটি হাত ও ভ্যানেটি ব্যাগে একটি চিরকুটসহ মাথা পাওয়া যাওয়ার কথা জানান।

ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সর্বত্রই ভীতির সঞ্চার করে। ময়মনসিংহের পুলিশ বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করে।

সিসি ক্যামেরার ছবি ও চিরকুটের সূত্র ধরে ময়মনসিংহের ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, এসআই আক্রাম ও জুয়েলসহ ডিবি পুলিশ নেত্রকোনার পূর্বধলা, ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও গাজীপুরের বানিয়ারচালায় অভিযান চালিয়ে মো. ফারুক মিয়া ও তার ভাই হৃদয় মিয়া, বোন সাবিনা আক্তার এবং ভাইয়ের বউ মৌসুমী আক্তারকে গ্রেফতার করে।

তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার সুতারপাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি (গার্মেন্টসে ব্যবহৃত), মোবাইল ফোন, একটি ব্যাগ ও এক টুকরো ইট (হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত) আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এটা তার জীবনের ‘সেরা ডিটেকশন’। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাবে না। নিহত বকুলের নামে তিনটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×