ত্রিশালে কিশোর মামুন হত্যায় আসামিদের লোমহর্ষক বর্ণনা

  ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

গলা কেটে হত্যা
গলা কেটে হত্যা। প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের কাজীরকান্দা এলাকায় অটোরিকশার জন্য কৌশলে খুন করা হয় কিশোর মামুনকে।

খুন করার আগে যাত্রীবেশে ভাড়ায় অটোরিকশা নিয়ে যায় খুনিরা। তারা কাজীরকান্দা স্কুলের পাশে একটি বাঁশঝাড়ে প্রথমে মামুনকে আটকে রাখে এবং একজন গলা কেটে হত্যা করে মামুনকে।

গ্রেফতারকৃত এমারত আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এমনটাই স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

জবানবন্দিতে আরও জানায়, খুনিরা মানুনকে হত্যা করে আসামিরা অটোরিকশাটি নান্দাইল উপজেলায় চল্লিশ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে পাঁচজন টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল কাইয়ুম।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে উপজেলার আউলিয়ানগর রেলস্টেশনের সামনে থেকে অটোগাড়িসহ নিখোঁজ হয় বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া। বুধবার রাত থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাকে আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

দুদিন খোঁজাখুঁজির পর মামুনের কোনো সন্ধান না পেলেও শুক্রবার সকালে ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের কাজীরকান্দা নামকস্থানে সড়কের পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মামুনের লাশ শনাক্ত করে। ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত মামুন উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে।

শনিবার নিহতের পিতা সোহেল মিয়া বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামের ফরমান মিস্ত্রির ছেলে এমারতকে গ্রেফতার করে ত্রিশাল থানা পুলিশ।

তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একই এলাকার শহিদ আলীর ছেলে আল আমিন ও আরিফুল ইসলাম, রনি ও ঈশ্বরগঞ্জ থেকে অটোসহ ক্রেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া এমারত আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, তারা মামুনকে বালিপাড়ার বিয়ারা পয়েন্ট থেকে বালিপাড়া-ত্রিশাল সড়কে নিয়ে আসছিল। রামপুর ইউনিয়নের কাজীরকান্দা নামকস্থানে এসে তারা মামুনকে কাজীরকান্দা স্কুলের পাশে একটি বাঁশঝাড়ে বেঁধে রাখে এবং অটোগাড়িটি নিয়ে নান্দাইল উপজেলায় ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে।

রাতে আবার সেখানে এসে আরিফ ও রনি পাহারা দেয় এবং আল আমিন মামুনের গলায় ছুরি চালিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে তারা পাঁচজন অংশগ্রহণ করে বলে জানায় আসামি এমারত।

নিহত মামুনের বাবা সোহেল মিয়া জানান, আমার সংসারের বড় সন্তান মামুন অটোরিকশা চালিয়ে অভাব অনটনের সংসারে যোগান দিত। তাকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, কিশোর মামুনকে অটোরিকশার জন্যই গলা কেটে হত্যা করেছে বলে আসামির স্বীকারোক্তি থেকে জানা গেছে। বাকি আসামিদের আটক করলে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×