হাজারো ট্রেনযাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন নওগাঁর আবু বক্কর

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় রেললাইন ভেঙে গেছে। ছবি: যুগান্তর

নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় সাধারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষাপেল ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের হাজারো যাত্রী। ওই ব্যক্তি নাম আবু বক্কর। তিনি উপজেলার বড়বড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। 

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রানীনগর উপজেলা থেকে দক্ষিণে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে গোনা ইউনিয়নের বড়বড়িয়া-গোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীনগর স্টেশন আউটারে চকের ব্রিজের আগে বড়বড়িয়া-গোনা এলাকায় রেললাইনের নিচের অংশ প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে আছে। 

রেললাইন পার হওয়ার সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় ব্যক্তি আবু বক্করের নজরে আসে।  তিনি দেখেন যে কোনো এসময় লাইনটি ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এরপর তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে ভাঙা রেললাইনের পাশে অপেক্ষা করেন। 

এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেন রানীনগরে ঢুকছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তি লাল গেঞ্জি উঠিয়ে ট্রেন থামার জন্য সংকেত দেন। এসময় ট্রেনচালক রেললাইন ভাঙা অংশের আগে ট্রেন থামিয়ে দেন। এতে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় হাজারো যাত্রী। এরপর ট্রেনচালক বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রেললাইনের একটি অংশে স্থানীয় আবু বক্কার নামে এক ব্যক্তি ভাঙা দেখতে পান। তার বুদ্ধিমত্তায় একতা ‘একতা এক্সপ্রেস’ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। 

ভাঙা স্থানের পাশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেমে থাকে। রানীনগরে আটকা পড়ে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’। 

এছাড়া আত্রাই আহসানগঞ্জে ‘বরেন্দ্র এক্সপ্রেস’ আটকা পড়ে। রাত ৭টার দিকে রেল লাইনের ভাঙা ওই অংশ সরিয়ে সেখানে আরেকটি রেললাইনের পাত বসিয়ে সংস্কার করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।