অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় বিক্ষোভ, ৫ শিক্ষার্থী গ্রেফতার

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় বিক্ষোভ। ছবি: যুগান্তর

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্ষোভ চলছে। 

রোববার সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে বিক্ষোভ করছেন। তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আটক ২৫ ছাত্রের মধ্যে পাঁচজনকে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 

তারা হলেন- পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাফি শাহরিয়ার (২৩), সোহেল রানা (২২), বাঁধন রায় (২০), আরিফুল ইসলাম (২৩) ও মেহদী হাসান রাব্বি (২১)। 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে পলিটেকনিকের ২৫ ছাত্রকে আটক করা হয়। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, মিডটার্ম পরীক্ষায় ফেল এবং ক্লাশে অনুপস্থিত থাকা পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে ফাইনাল পরীক্ষায় সুযোগ দিতে শনিবার সকালে নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে চাপ দেন। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়।

এর জের ধরে দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ এবং তার সহযোগীরা অধ্যক্ষকে টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। 

অধ্যক্ষ তখন মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে নিজের কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ১০ জন তরুণ অধ্যক্ষকে দ্রুতগতিতে পুকুরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। 

কেউ অধ্যক্ষের হাত ধরে টানছিল আবার কেউ পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

পরে ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা গিয়ে অধ্যক্ষকে পুকুর থেকে টেনে তোলেন। এ ঘটনায় রাতে চন্দ্রিমা থানায় ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অধ্যক্ষ। 
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এতে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এরা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার বিভাগের অষ্টম পর্বের ছাত্র কামাল হোসেন সৌরভ, ইলেকট্রনিক্সের পঞ্চম পর্বের মুরাদ, পাওয়ারের সাবেক ছাত্র শান্ত, ইলেক্ট্যিালের সাবেক ছাত্র বনি, মেকাট্রনিক্সের সাবেক ছাত্র হাসিবুল ইসলাম শান্ত, ইলেকট্রমেডিক্যালের সাবেক ছাত্র সালমান টনি, একই বিভাগের সপ্তম পর্বের ছাত্র হাসিবুল এবং কম্পিউটারের সাবেক ছাত্র মারুফ। বাকি আসামিরা অজ্ঞাত।

এদিকে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত এবং পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দানকারী কামাল হোসেন সৌরভকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। শনিবার রাতেই রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। 

পরে রাতেই সুপারিশ পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। একইসঙ্গে সভায় পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, ঘটনার সঙ্গে সৌরভের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি কল্যাণ কুমার জয়ের নেতৃত্বে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। 

কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে ছাত্রলীগের আর কারও বিরুদ্ধে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে রোববার সকাল থেকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলা বিক্ষোভে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হচ্ছে।