কলেজছাত্রীর অভিযোগ ঠেকাতে পাহারা বসিয়েছেন চেয়ারম্যান!

  পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

চেয়ারম্যান সাদেক উদ্দীন
চেয়ারম্যান সাদেক উদ্দীন। ফাইল ছবি

নওগাঁর দিবর ইউনিয়নের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে পাশের নজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেক উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

বিয়ের চাপ দিতেই, পাওনা টাকার মিথ্যা দাবি চাপানো হচ্ছে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে। এমনকি অভিযোগ ঠেকাতে চৌকিদারী পাহারা বসিয়ে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে ওই ছাত্রীর পরিবারকে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোনো প্রতিকার পাননি ওই ছাত্রী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

ভিকটিমের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিয়ের কথা বলে দৈহিক সম্পর্ক চলে আসছিল। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চেয়ারম্যান চাপসৃষ্টি করেন। গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে না চাইলে ছোট মেয়ের বিয়ের পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবে বলে বাচ্চাটি নষ্ট করতে বাধ্য করেন।

সম্প্রতি তাকে বিয়ের করার কথা বললে ভিকটিমের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন চেয়ারম্যান সাদেক। অভিযোগ ঠেকাতে গত সোমবার থেকে চৌকিদারী পাহারায় অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে ভিকটিমের পরিবারকে।

এতে সহযোগিতা করছেন দিবর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরকার ও দিবর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর রশীদ।

ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আঁতাত করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে ৪০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করছে। আমরা নিজেরাই আশ্রয়ন প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছি। মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযুক্ত নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাদেক উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে দিবর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ মাস্টার বলেন, মেয়েটির সঙ্গে নজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান সাদেকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল সত্য। মেয়েটি তার কাছে টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি। তাই মেয়েটি যেন কোথাও পালাতে না পারে সে জন্য আমি গ্রাম পুলিশদের দেখতে বলেছি।

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গ্রাম পুলিশকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা উভয়পক্ষকে ডেকে একটি সমাধান করার জন্য ডেকেছি।

ধর্ষণের মামলা রুজু না করে উল্টো ভিকটিমের বিরুদ্ধে সালিশের সমাধান করার এখতিয়ার পুলিশের আছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশেই ডাকা হয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশকে বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×