আতঙ্কে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করেছেন বোরহানউদ্দিনের অনেকে

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  অমিতাভ অপু, ভোলা

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনার পর জেলায় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ কারণে সরকারি দফতরের অনেক কর্মকর্তা ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। 

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার করা মামলায় আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
জেলার বিভিন্ন থানা ও সরকারি দফতরের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৪ মাসে ফেসবুক হ্যাকড হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় জিডি হয়েছে ৩৩টি।

এছাড়া মেসেঞ্জার ও মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১২০টি।

এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ফেসবুক আইডি হ্যাকের বিষয়ে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। খোদ তার নিজের ফেসবুক আইডিও হ্যাকড হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলার ৯টি থানার তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত চার মাসে ফেসবুক আইডি হ্যাকড’র ঘটনায় ভোলা সদর থানায় ১৩টি, দৌলতখান থানায় ১টি, বোরহানউদ্দিন থানায় ৪টি, তজুমদ্দিন থানায় ৩টি, লালমোহন থানায় ৮টি, মনপুরা থানায় ২টি, দক্ষিণ আইচা থানায় ১টি ও দুলারহাট থানায় ১টি জিডি হয়েছে।

এসব জিডিতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, তাদের ফেসবুক আইডি হ্যাকড হওয়ার পর তাদের আইডিতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পোস্ট দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর বোরহানউদ্দিন থানায় বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যের জিডিতেও উল্লেখ ছিল তার আইডি হ্যাকড করে একটি গ্রুপ ব্লাকমেইল করছে। টাকা চাইছে।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ২১ অক্টোবর ভোলা থানায় করা জিডিতে উল্লেখ করেন, আগের রাতেই তার ব্যক্তিগত নামের ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়। ফলে ওইদিন থেকে তিনি ফেসবুক আর ব্যবহার করছেন না। এমনকি তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করা হয়েছিল। তিনি ওই ফোন নম্বর ব্যবহারে টানা ৫ দিন সমস্যায় ছিলেন।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, গেল সপ্তাহে তার মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে কয়েকজনের কাছে তার নাম বলে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি জেনে তিনি পরিচিতজনদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন।

দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জীতেন্দ্র কুমার নাথ একই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, একইভাবে তার নাম বলে বোরহানউদ্দিনের দুই মাদ্রাসা শিক্ষক ও দৌলতখানের ৩ শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আসে।

ইউএনও জীতেন্দ্র জানান, তার মেসেঞ্জারে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম দিয়ে মেসেজ আসে। দু’মাস আগে ভোলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, তার কাছেও একইভাবে টাকা চাওয়া হয়।