দিনাজপুরে থানায় নিয়ে কর্মীকে যুবলীগ নেতার নির্যাতন

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি: যুগান্তর

বাড়ি থেকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক যুবলীগ কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবলীগ সভাপতি রাশেদ পারভেজের বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মামুন। 

তিনি বলেন, ‘৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ ও পল্লী বিদ্যুতের রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন চিরিরবন্দর উপজেলার রানীপুরে আমাদের গ্রামের বাড়ি যান। 

আমাকে জোরপূর্বক ধরে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার গোলঘরে নেয়া হয়। সেখানে আমার ওপর প্রচণ্ড নির্যাতন চলে। বাড়ি থেকে আনার পথেও আমাকে মারধর করা হয়। এরপর আমার বিরুদ্ধেই প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীম থানায় মামলা দায়ের করেন এবং থানায় আটকে রাখেন। পরের দিন ৬ নভেম্বর আদালত থেকে জামিন নিয়ে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই।’ 

তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার নাম করে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমের বিরুদ্ধে। টাকা নিয়েও বিদ্যুতের সংযোগ এলাকাবাসী না পাওয়ায় তারা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। 

আমি বিদ্যুতের সংযোগের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় কথা বললে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংযোগ দেয়ার আশ্বাস দেয়। বিষয়টি মাসুদ রানা শামীম জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজকে বললে আমার ওপর এই বিপদ নেমে আসে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে মামুনের স্ত্রী আকতারিনা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

তবে দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ বলেন, ‘আবদুল্লাহ আল মামুন যুবলীগের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ও সুবিধা নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ পাচ্ছি। এজন্য তাকে ডেকে এনে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করি। তবে তার গায়ে কোনো হাত দেইনি। আর থানায় বসে মারধরের তো প্রশ্নই আসে না।’

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ বলেন, পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমসহ কয়েকজন ৫ নভেম্বর রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে আবদুল্লাহ আল মামুনকে ধরে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন মাসুদ রানা শামীম। থানার ভেতরে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই।’ 

এদিকে স্বামীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে চিরিরবন্দর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন আবদুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী আকতারিনা বেগম।