ট্রেনের এক যাত্রীর মুখে দুর্ঘটনার মর্মস্পর্শী বর্ণনা

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফিরে আসাদুজ্জামান ফারুক (ভৈরব প্রতিনিধি) ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৭:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী সুব্রত চক্রবর্তী

‘হঠাৎ বিকট শব্দে আমি আঁতকে উঠি। পরে দেখি ট্রেন অন্ধকার হয়ে গেছে। আমার ওপর অনেক যাত্রী, তাই শ্বাস নিতে পারছিলাম না। অন্ধকারে এদিক-ওদিক ছুটছিলাম কিন্তু ট্রেন থেকে বের হওয়ার কোনো পথ বা দরজা-জানালা দেখছিলাম না। ভাবছিলাম মৃত্যু এখনই হয়ে যাবে। এমন সময় কিছু লোক টর্চ মেরে আমাকে ট্রেনের জানালা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বের করল। বুঝতে পারলাম বেঁচে গেছি।’

‘কিন্তু তখনও বুঝতে পারেনি ট্রেনে কি হয়েছে। ট্রেন থেকে বের হওয়ার পর দেখলাম শত শত ট্রেনযাত্রীর চিৎকার-আর্তনাদ আর কান্নার আজাহারি। তখন বুঝলাম ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

যুগান্তর প্রতিনিধির নিকট কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রী সুব্রত চক্রবর্তী (৪২)।

তিনি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সাধন চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

আহত সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, সোমবার রাতে হবিগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশে রাতে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী হয়ে উঠেন। ট্রেনের সিটে বসে পাশের যাত্রীদের সঙ্গে গল্প- গুজব করে সময় কাটছিল। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মকন্দপুর রেল স্টেশনের নিকটে পৌঁছলে হঠাৎ বিকট শব্দে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।

তিনি বলেন, ঘটনার ১০ মিনিট পর আমাকে স্থানীয় লোকজন ট্রেন থেকে টেনে নামালে বুঝতে পারি ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। এ সময় আমার হাত ও পা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পকেটের রুমাল দিয়ে আমি হাত বাঁধলাম। ট্রেন থেকে নামানোর পর আমি কিছুটা অজ্ঞান ছিলাম। পরে লোকজন মাথায় পানি দিলে আমার জ্ঞান ফিরে আসে।

সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, তখন দেখলাম ঘটনাস্থলে শত শত যাত্রী চিৎকার করছে। কারো হাত নেই, কারো পা নেই, কেউ বা গুরুতর আহত হয়ে কান্না করছে। স্থানীয় অনেক লোক ট্রেনের ভিতর থেকে আহত ও নিহত যাত্রীদের বের করছে। অনেক নারী-পুরুষ দৌড়াদৌড়ি করছে।

তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিল না লোকজন। একপর্যায়ে আমাকে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে যায় কিছু লোক। আমি ভয়ে কাতর হয়ে গেলাম। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ দমকল বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে আসতে দেখলাম।

ওই আহত যাত্রী বলেন, সকাল ৬টার দিকে আমাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য আহতদের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে দেখলাম দুইজন যাত্রীর পা ভেঙে গেছে। একজনের মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টায় হাসপাতালে পৌঁছলে আমার চিকিৎসা শুরু হয়। আমার হাত ও পায়ের গোড়ালি কেটে গেছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত