এমন উদাহরণ দেখিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল ওসি মেহেদী হাসান

  অনলাইন ডেস্ক ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

ওসি মেহেদী
আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারাভিযানে ওসি মেহেদী হাসানের ভাইরাল সেসব ছবি। ছবি-ফেসবুক

গত মঙ্গলবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক পুলিশ কর্মকর্তার ছবি। যেখানে দেখা গেছে, পুকুরে নেমে দুর্ঘটনাকবলিত উল্টে থাকা বাসযাত্রীদের উদ্ধার করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া বাসযাত্রীদের উদ্ধারে পানিতে নামা সেই পুলিশের নাম মো. মেহেদী হাসান। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানা পুলিশের ওসি।

তার সেই উদ্ধারকাজের বেশ কিছু ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের টাইমলাইনে সেসব ছবি পোস্ট করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সেই ওসির। তাকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শরীয়তপুরে ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কে উপজেলার খেজুরতলা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

আর সেই দুর্ঘটনার উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের আসার অপেক্ষা না করেই নিজেকে যুক্ত করেন ওসি মো. মেহেদী হাসান।

আর তার এই উদ্যোগের কারণেই বাসের ভেতরে আটকেপড়াদের দ্রুত উদ্ধার করা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ওই সময় ওসি নিজে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাসযাত্রীদের উদ্ধার না করলে এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা হয়তো আরও বেশি হতে পারত।

জানা গেছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তত ১০-১৫ জনকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করেছেন ওসি মেহেদী হাসান।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ডামুড্যা উপজেলা শাখার সহসভাপতি মোহাম্মদ নান্নু মৃধা বলেন, গাড়িটি খাদে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের ওসি মেহেদী হাসান দ্রুত লাফিয়ে পড়েন পানিতে। তিনি প্রথমে গাড়ির জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে দেন। যাতে করে ভেতরে আটকেপড়া যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে। পানির নিচে গাড়ির ভেতর থেকে বের করে আনেন অনেক যাত্রীকে। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে রক্ষা পায় বহু প্রাণ। তার এ বীরত্বের জন্য উপস্থিত হাজারও মানুষ তাকে এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

গাড়ির ভেতর আটকেপড়া ছয় নারীসহ ১০ থেকে ১৫ যাত্রীকে ওসি নিজেই উদ্ধার করেন বলে জানান নান্নু মৃধা।

এ বিষয়ে ওসি মেহেদী হাসান বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। সেই চিন্তা করেই যাত্রীদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। এটা তো আমার কর্তব্য ছিল। তা ছাড়া ওই সময় ফায়ার সার্ভিসের আসার অপেক্ষা করলে আটকেপড়া যাত্রীদের অনেকেই ডুবে মারা যেতেন। তাই পানিতে নিজেই নেমে পড়ি। আমার দেখাদেখি গ্রামবাসীও নেমে পড়েন।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে আমাদের মেহেদী হাসান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যা করেছেন তা পুলিশ বিভাগের জন্য সত্যিই প্রশংসনীয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×