আড়াই ঘণ্টা গেট ধরে দাঁড়িয়ে সহপাঠীদের পরীক্ষা দিতে দেখল মাহিবুল!

  বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

আড়াই ঘণ্টা গেট ধরে দাঁড়িয়ে সহপাঠীদের পরীক্ষা দিতে দেখল মাহিবুল
আড়াই ঘণ্টা গেট ধরে দাঁড়িয়ে সহপাঠীদের পরীক্ষা দিতে দেখল মাহিবুল

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী (পিইসি) পরীক্ষা দেয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আড়াই ঘণ্টা কেন্দ্রের গেট ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও পরীক্ষা দেয়া হল না মাহিবুলের।

কারণ অন্যদের মতো স্বাভাবিক নয় সে। জন্ম থেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাই বাবা তাকে পরীক্ষা দিতে ডিআরভুক্ত করাননি।

কিন্তু পরীক্ষার দিন শিশু মনকে চার দেয়ালে আটকাতে পারেননি। স্কুল ড্রেস পরে তার সহপাঠীদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসে গেটে দাঁড়িয়ে থাকে মাহিবুল।

সে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নওশেরা মহল্লার কামরুল আহসান খানের একমাত্র সন্তান।

মাহিবুলের বাবা জানান, বয়সের দিক থেকে বেড়ে উঠেছে কিন্তু অন্য শিশুদের মতো তার সন্তান মাহিবুল বুদ্ধিতে স্বাভাবিক নয়। জন্ম থেকেই এ সব সমস্যা নিয়ে বেড়ে উঠছে। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তার লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছার কারণে বাবা-মা তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।

তিনি বলেন, এভাবেই কোনো মতে পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠে। কিন্তু সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না ভেবে তাকে এ বছর ডিআরভুক্ত করাননি বাবা-মা। কিন্তু মাহিবুলকে বোঝানো যায়নি। তার স্কুল ড. এমদাদ খান ও ছেতেরা খান অর্কা কৃষি ও কারিগরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিইসি পরিক্ষার্থীদের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার মাহিবুলও বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা পেড়াবাড়ীয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সহপাঠীদের সঙ্গে তাই সে ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে চায়। এ কারণে পরীক্ষার দিন অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য স্কুল ড্রেস পরে প্রস্তুত হয়।

জিদের কাছে হার মেনে বাবা তাকে কেন্দ্রে আনেন। কিন্তু প্রবেশপত্র নেই। তাই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি। কেন্দ্রের মূল ফটকের গ্রিল ধরে তাই কাটালো আড়াই ঘণ্টা। অবাক নয়নে সহপাঠীদের কক্ষের দিকে তাকিয়ে থেকেই কাটিয়ে দিল পুরো সময়।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মজনু মিয়া বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু শিশুটির বাবা-মা ডিআরভুক্ত কেন করাননি তিনি তা জানেন না। তাছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষও তাকে বিষয়টি অবহিত করেননি। তবে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে আগামী বছর শিশুটির পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা তিনি গ্রহণ করবেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×