পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব যবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায়

  যশোর ব্যুরো ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, ট্রেনে উপচে পড়া ভিড়
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, ট্রেনে উপচে পড়া ভিড়

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৯-২০শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের এ, বি এবং সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। টানা পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে ভর্তি পরীক্ষার উপস্থিতিতে।

বৃহস্পতিবার ৯টি কেন্দ্রে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ভর্তি পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। যা গত বছরের ভর্তি পরীক্ষার তুলনায় এ সংখ্যা ৫ থেকে ১০ শতাংশ কম।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ট্রেনই ছিল বড় ভরসা। ট্রেনে ব্যাপক ভিড় ছিল। অনেকে রিজার্ভ বাসেও এসেছে।

শুক্রবার শুধুমাত্র যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ডি, ই এবং এফ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) হায়াতুজ্জামান বলেন, সবকটি কেন্দ্রেই ছিল পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ইলেক্ট্রনিক বা ব্লুটুথ ডিভাইস শনাক্তে ছিল বিশেষ নিরাপত্তা পরিদর্শক। কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তিনি জানান, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজে একজন ছাত্র এবং শিক্ষাবোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে আরেকজন ছাত্রকে পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বন করায় বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যশোর রেল স্টেশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভর্তি পরীক্ষার্থী এসে পৌঁছান। তাই সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে যবিপ্রবির স্বেচ্ছাসেবক ও সহায়তাকারী দল যশোর রেল স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন।

তারা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের অবস্থান চিনিয়ে দিতে সহায়তা করেন এবং তাদের পরীক্ষার কেন্দ্রের অবস্থান বলে দেন।

এ ছাড়া যশোর শহরের মণিহার-ক্যাম্পাস, চাঁচড়া-ক্যাম্পাস রুটের গাড়িসমূহ নির্ধারিত সময় ছাড়াও সকাল ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলাচল করে। একইসঙ্গে পালবাড়ি-ক্যাম্পাস রুটে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুটি বাস চলাচল করে। ফলে যশোর শহরে কোনো শিক্ষার্থী এসে পৌঁছালে তিনি নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন।

আর যে সব পরীক্ষার্থী যথাসময়ে তার নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পারেননি, তাদের নিকটস্থ কেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর যেসব শিক্ষার্থী কেন্দ্রে এসে পৌঁছেছেন তাদেরও পরীক্ষা নেয়া হয়।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে পৌঁছান। তারা জানান, অনেক আগেই রওনা দিলেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। আবার অনেকে পৌঁছলেও দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।

অঘোষিত এ ধর্মঘটের বিষয়ে যশোর সরকারি এমএম কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটার পর একটা পরীক্ষা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এ দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে পরিবহন ব্যবস্থা চালু করুন, আমাদের সাহায্য করুন।

তিনি বলেন, এ পরিবহন ধর্মঘট শিক্ষার্থীদের উপর কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে পরীক্ষা নির্বিঘ্নে হয়েছে। এ ধর্মঘটে শুধু শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হচ্ছে তা নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। জনগণকে জিম্মি করে এভাবে দাবি আদায় কোনো শুভ লক্ষণ নয়।

শুক্রবার শুধুমাত্র যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ডি, ই এবং এফ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ‘ডি’ ইউনিট, বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ‘ই’ ইউনিট এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করতে হবে www.just.edu.bd এই ওয়েবসাইটে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×