ইন্দুরকানীতে ১২৫ হেক্টর জমির কলাগাছ লণ্ডভণ্ড

  ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩০:২০ | অনলাইন সংস্করণ

ইন্দুরকানীতে কলাগাছ লণ্ডভণ্ড

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ১২৫ হেক্টর জমির কলাগাছ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ধার-দেনা ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে উপজেলার কলা চাষীরা কলার চাষ করেন। কিন্তু কৃষকের স্বপ্নকে লণ্ডভণ্ড করে দেয় সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

কলা চাষ করেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তাদের সেই স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়ে পথে বসিয়ে দিয়ে গেছে। এখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এর ওপর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় তাদের দিন কাটছে। ক্ষতিগ্রস্ত কলা চাষীরা সরকার বা কোনো সংস্থা থেকে সহায়তা পাননি। টাকার অভাবে অনেক চাষী ক্ষেতের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে নতুন গাছ লাগাতে পারছেন না।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে উপজেলার চরনী পত্তাশী গ্রামের মো. বাদল খানের দেড় বিঘা জমির ১৫ শতাধিক কলাগাছ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ দেড় লাখ টাকা।

এ ছাড়া জালাল শেখের ২ বিঘা জমির ১৭ শতাধিক কলা গাছ ভেঙ্গে দেড় লাখ টাকা, হাসান আকনের ৩ বিঘা জমির ২ হাজার কলা গাছ ভেঙ্গে আড়াই লাখ টাকা, ছবির আকনের দেড় বিঘা জমির ১৫ শতাধিক কলা গাছ ভেঙ্গে দেড় লাখ টাকা, হানিফ খানের ৩ বিঘা জমির ৩ হাজার কলা গাছ ভেঙ্গে ৩ লাখ টাকা, জাকির হোসেন হাওলাদারের ৩ বিঘা জমির ৩ হাজার কলা গাছ ভেঙ্গে ৩ লাখ টাকা, জানে আলম হাওলাদারের ৪ বিঘা জমির ৪ হাজার কলা গাছ ভেঙ্গে ৪ লাখ টাকা, জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ২ বিঘা জমির ২ হাজার কলা গাছ ভেঙ্গে ২ লাখ টাকা, আলমগীরের ৬ বিঘা জমির ৬ হাজার গাছ ভেঙ্গে ৬ লাখ টাকা, বাবুল খানের ৬ বিঘা জমির ৬ হাজার গাছ ভেঙ্গে ৬ লাখ টাকা, সাব্বির শেখের ৭ বিঘা জমির ৭ হাজার গাছ ভেঙ্গে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, ইন্দুরকানী গ্রামের আবুল বাশার মৃধা, মজুন হাওলাদার, ইলিয়াছ হাওলাদার, জনারধনের ও চাড়াখালী গ্রামের মো. কামাল হাওলাদারের ৩টি ক্ষেত, চর গাজীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ইলিয়াস হোসেনের ১১ হাজার কলা গাছসহ ৩ শতাধিক কলা ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

চরনী পত্তাশী গ্রামের বাদল খান জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে আমার কলা ক্ষেত একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব। সরকার বা কোনো সংস্থা থেকে আমরা কোনো সহায়তা পাইনি। সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে আমরা আবার কলার চাষ শুরু করব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা সিদ্দীকা জানান, ১৪৫ জন কলা চাষীর ১২৫ হেক্টর কলাক্ষেতের মধ্যে ১০০ হেক্টর ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত