কুমিল্লায় জুতায় খুনি শনাক্ত!

  কুমিল্লা ব্যুরো ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লা

কুমিল্লার চান্দিনায় আলোচিত নসিমন চালক জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।

ঘটনার মাত্র ৫ দিনেই ফেলে যাওয়া ঘাতকের একটি জুতায় ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এতে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার আবদুল মালেক এবং বুধবার ছানাউল্লাহ কুমিল্লার ৭নং আমলী আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খানের আদালতে ঘটনার দায় এবং হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

সিএনজি বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জের ধরেই জাকির হোসেনকে হত্যা করা হয়। আর ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ঘাতক ছানাউল্লার পায়ের একটি জুতার কারণেই ঘটনার রহস্য বেড়িয়ে আসে।

বৃহস্পতিবার চান্দিনা থানার ওসি আবুল ফয়সল এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নসিমনচালক জাকির হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতের অন্ধকারে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর একটি ডোবার পাশে লাশ ফেলে যায় ঘাতকরা।

এ ঘটনায় শনিবার নিহতের মেয়ে নাঈমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। নিরীহ জাকির হোসেনকে কী কারণে, কেন হত্যা করা হল এ নিয়ে শুরু হয় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে পুলিশ। নসিমনচালক জাকির হত্যাকাণ্ডের কোনো সাক্ষী না থাকলেও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সাক্ষী হল জুতা!

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি রাবারের জুতা পাওয়ার পর ওই জুতাটিকে ঘিরে শুরু হয় পুলিশের অনুসন্ধান।

স্থানীয়দের তথ্যে বের হয়ে আসে ওই জুতার মালিক কে? পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই জুতার মালিক শ্রীমন্তপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে সিএনজিচালক ছানাউল্লাকে (২৬) আটক করে।

ছানাউল্লাহর দেয়া তথ্যমতে একই গ্রামের এরশাদের ছেলে আব্দুল মালেককেও (২৮) আটক করা হয়। এর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলতে থাকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত দুইজন জানায়, সম্প্রতি নসিমনচালক জাকির হোসেনের সঙ্গে সিএনজি কেনা-বেচা নিয়ে ঘাতক ছানাউল্লার কথা কাটাকাটি হয়। এরই সূত্র ধরে জাকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ছানাউল্লা।

গত শুক্রবার রাত প্রায় ১টার দিকে কাজ শেষে জাকির হোসেন বাড়ি ফেরার পথে বিলের মাঝখানে তার ওপর হামলা চালায় ঘাতক ছানাউল্লা ও তার সহযোগী মালেক। তাকে শ্বাসরোধ করে কিল-ঘুষির একপর্যায়ে হঠাৎ অচেতন হয়ে পরে জাকির হোসেন। কিছুক্ষণ পর তারা বুঝতে পারেন জাকির হোসেন মারা গেছেন। আর হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে হাত-পা বেঁধে লাশ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলার চেষ্টা করে তারা।

লাশটি ডোবার পাড়ে নিয়ে যেতেই দূর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির টর্চ লাইটের আলো দেখে মুহূর্তের মধ্যেই লাশ ফেলে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। এ সময় তাড়াহুড়া করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পরার সময় পথিমধ্যে ছানাউল্লার বাম পায়ের একটি জুতা পড়ে যায়। আর ওই জুতা নিয়ে অনুসন্ধান করেই দুই ঘাতককে শনাক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গিয়াস উদ্দিন জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই ছানাউল্লা ও মালেক জাকির হোসেনকে মারধর করতেই আক্রমণ করে। কিন্তু তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে ঘটনাস্থলেই জাকির হোসেন মারা যায়। এ সময় তারা লাশ ডোবায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের পর আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×