সুমাইয়া হত্যা মামলার বাদীকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

সুমাইয়া আক্তার
সুমাইয়া আক্তার। ফাইল ছবি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার হত্যা মামলার বাদীকে মামলা তুলে নিতে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মামলার বাদী।

এ কারণে নিহতের পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। নড়িয়া থানা বলছে, এ ঘটনায় সুমাইয়ার পরিবারের কেউ আমাকে জানায়নি। আসলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিব।

নিহতের পরিবার ও নড়িয়া থানা সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের বিদেশ প্রবাসী আবদুর রব শেখের কন্যা সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের দুলাল মাদবরের ছেলে ইতালি প্রবাসী জুলহাস মাদবরের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিবাহের পর কয়েক মাস ভালই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন।

কিছুদিন যেতে না যেতে স্বামী জুলহাস মাদবর সুমাইয়াকে তার বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক আনতে চাপ দেয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্বামী জুলহাস মাদবর ও তার পরিবারের লোকজন মিলে সুমাইয়াকে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে।

এরপর গত ৮ নভেম্বর স্বামী জুলহাস সুমাইয়াকে যৌতুকের জন্য আবারো চাপ প্রয়োগ করে মারধর করে। এর পরেও সুমাইয়া পরিবার যৌতুক দিতে অস্বীকার করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৫ নভেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় সুমাইয়াকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তখন তার চিৎকারে আশে পার্শ্বের লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সুমাইয়ার স্বামীর পরিবার তাকে সদর হাসপাতালে না নিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়। শনিবার ১৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমাইয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ি এনে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা মাফিয়া বেগম বাদী হয়ে সুমাইয়ার স্বামী জুলহাস মাদবর, শ্বশুর দুলাল মাদবর, শাশুড়ি সেলিনা বেগম, ননদ আলো বেগমসহ ৯ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শরীয়তপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নড়িয়া থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।

নিহত সুমাইয়ার মা মাফিয়া বেগম বলেন, আমার মেয়ে সুমাইয়াকে বিয়ে দেয়ার পর থেকেই তার স্বামী ও শ্বশুর পরিবার যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার মেয়েকে মারপিট করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে। পরে আমার মেয়ে ঢাকায় হাসপাতালে মারা যায়।

তিনি বলেন, আমরা নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। আমি আদালতে মামলা করেছি। মামলার আসামিরা আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমি আতঙ্কিত। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এসএম তৌহিদুল বাসার বলেন, সুমাইয়াকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সে সময় অজ্ঞান ছিল। গলা দিয়ে গড়গড় শব্দ করছিল। রোগীর গলায় হালকা দাগ ছিল। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

নড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। নিহত পরিবারের কেউ আমাকে হুমকির বিষয়ে জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×