কুষ্টিয়ায় বাজারের পেঁয়াজ উধাও!
jugantor
কুষ্টিয়ায় বাজারের পেঁয়াজ উধাও!

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

২২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩৪:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই পেঁয়াজ শূন্য হয়ে পড়েছে। খুচরা কিংবা পাইকারি বাজার কোথাও মিলছে না পেঁয়াজ। দাম নিয়ে প্রশাসনের ভয়ে আড়তদারেরা পেঁয়াজ আনছে না।

অন্যদিকে আড়তদারের কাছ থেকে পেঁয়াজ নিয়ে খুচরা বিক্রেতারাও বিক্রি করছেন না।

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি থাকলেও সংকটের কারণে টাকা দিয়েও পেঁয়াজ কিনতে পারেননি অনেক ক্রেতা।

আড়তদাররা বলছেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারণে পেঁয়াজ আমদানি করা যাচ্ছে না। বাজারে স্বল্প কিছু পেঁয়াজ থাকলেও তা প্রশাসনের বেধে দেয়া দরে বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

তারা বলছেন, প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৭০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে এসে ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রির নির্দেশ দিচ্ছেন। এ কারণে বাধ্য হয়েই পেঁয়াজের আমদানি কিংবা বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পেঁয়াজের এমন সংকটে দিশেহারা ভোক্তারা।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পেঁয়াজ একেবারেই কম। তারপরও প্রশাসনের লোক এসে দাড়িয়ে থাকছে। কেনা দামই পড়ছে কেজি প্রতি ১৬১ টাকা। সেখানে ১৭০ টাকায় বিক্রি করলেও প্রশাসনের লোকজন চাপ দিচ্ছে। তাই ভয়ে কেউ পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না।

কুষ্টিয়া পৌরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্বল্প পরিসরে দুই একটি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা কেজি। এখানে প্রতিদিনের পেঁয়াজের চাহিদা ৫০ মণের বেশি। সেখানে ৫ থেকে ৬ জন আড়তদার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।

পৌর বাজারের আড়তদার শফি উদ্দিন জানান, সকাল ৭টায় বাজারের খুচরা বিক্রেতারা তার আড়তে ভিড় করেন। তার আড়তে মাত্র ৪ বস্তায় মোট ২৪০ কেজি পুরাতন পেঁয়াজ আসে। ১৬১ টাকা কেজি প্রতি তিনি বিক্রি করছিলেন। ১০টার দিকে একজন নির্বাহী হাকিম এসে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কয়েকজন খুচরা বিক্রেতারা তার কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যায়।

জরিমানার কাগজ দেখে জানা গেল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩৮ ধারায় তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অর্থাৎ আড়তে মূল্য তালিকা টাঙানো ছিল না।

তবে তিনি আড়তে টাঙানো তালিকা দেখিয়ে বলেন, ভোর থেকেই মূল্য তালিকা টাঙানো ছিল। তবে আমার কাছে পেঁয়াজ কেনার চালান দেখতে চেয়েছিলেন সেটা দেখাতে পারেননি তিনি।

এদিকে নির্বাহী হাকিমের তৎপরতা দেখে অনেক খুচরা বিক্রেতা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এছাড়া বাজারে আর কোনো পেঁয়াজ না থাকায় বিক্রিও বন্ধ হয়ে যায়।

বেলা ১২টায় বাজার ঘুরে আরও দেখা গেল, সবজি বিক্রেতাদের কাছে সব ধরনের সবজিসহ রসুন, আদা থাকলেও পেঁয়াজের ডালা খালি ছিল।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা বিক্রেতা বলেন, প্রশাসনের চাপাচাপির কারণে কেউ ঝুঁকি নিচ্ছে না। পুরাতন পেঁয়াজ ১৭০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছিল। নতুন পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি। পেঁয়াজ আমদানিও নাই।

এক বিক্রেতা বলেন, বৃহস্পতিবার কেজি প্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে যেটুকু পেঁয়াজ পেয়েছিলেন সেটার দাম পড়ছিল ১৭০ টাকা। বেশি দামে বিক্রি করলে প্রশাসন জরিমানা করতে পারে এজন্য ঝুঁকি না নিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক বিক্রেতা বলেন, আড়তে যায়ই ফিরি আইছি। কিনলামও না, বেচলামও না। বাজার ঠিক নাই। ক্যাম্বা কিনবো, আর ক্যাম্বা ব্যাচপো। দুপুরে খুচরা বাজার ঘুরে মাত্র একজনের কাছে কেজি দুই পেঁয়াজের দেখা মিললো সেটাও মান ভালো না।

বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে কিনে কোন বিক্রেতায় কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে রাজি হচ্ছে না। বরং পেঁয়াজ বাদ দিয়ে অন্য পণ্য বিক্রি করা ভালো। এতে ঝামেলামুক্ত থাকা যাচ্ছে।

জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বাজারে পেঁয়াজ খুবই কম ছিল। যেটুকু ছিল সেটা শেষ হয়ে যায়। তবে সমস্যা নাই সন্ধ্যার মধ্যে বাজারে পেঁয়াজ ঢুকবে।

কুষ্টিয়ায় বাজারের পেঁয়াজ উধাও!

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই পেঁয়াজ শূন্য হয়ে পড়েছে। খুচরা কিংবা পাইকারি বাজার কোথাও মিলছে না পেঁয়াজ। দাম নিয়ে প্রশাসনের ভয়ে আড়তদারেরা পেঁয়াজ আনছে না।

অন্যদিকে আড়তদারের কাছ থেকে পেঁয়াজ নিয়ে খুচরা বিক্রেতারাও বিক্রি করছেন না।

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি থাকলেও সংকটের কারণে টাকা দিয়েও পেঁয়াজ কিনতে পারেননি অনেক ক্রেতা।

আড়তদাররা বলছেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারণে পেঁয়াজ আমদানি করা যাচ্ছে না। বাজারে স্বল্প কিছু পেঁয়াজ থাকলেও তা প্রশাসনের বেধে দেয়া দরে বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

তারা বলছেন, প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৭০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে এসে ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রির নির্দেশ দিচ্ছেন। এ কারণে বাধ্য হয়েই পেঁয়াজের আমদানি কিংবা বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পেঁয়াজের এমন সংকটে দিশেহারা ভোক্তারা।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পেঁয়াজ একেবারেই কম। তারপরও প্রশাসনের লোক এসে দাড়িয়ে থাকছে। কেনা দামই পড়ছে কেজি প্রতি ১৬১ টাকা। সেখানে ১৭০ টাকায় বিক্রি করলেও প্রশাসনের লোকজন চাপ দিচ্ছে। তাই ভয়ে কেউ পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না।

কুষ্টিয়া পৌরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্বল্প পরিসরে দুই একটি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা কেজি। এখানে প্রতিদিনের পেঁয়াজের চাহিদা ৫০ মণের বেশি। সেখানে ৫ থেকে ৬ জন আড়তদার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।

পৌর বাজারের আড়তদার শফি উদ্দিন জানান, সকাল ৭টায় বাজারের খুচরা বিক্রেতারা তার আড়তে ভিড় করেন। তার আড়তে মাত্র ৪ বস্তায় মোট ২৪০ কেজি পুরাতন পেঁয়াজ আসে। ১৬১ টাকা কেজি প্রতি তিনি বিক্রি করছিলেন। ১০টার দিকে একজন নির্বাহী হাকিম এসে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কয়েকজন খুচরা বিক্রেতারা তার কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যায়।

জরিমানার কাগজ দেখে জানা গেল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩৮ ধারায় তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অর্থাৎ আড়তে মূল্য তালিকা টাঙানো ছিল না।

তবে তিনি আড়তে টাঙানো তালিকা দেখিয়ে বলেন, ভোর থেকেই মূল্য তালিকা টাঙানো ছিল। তবে আমার কাছে পেঁয়াজ কেনার চালান দেখতে চেয়েছিলেন সেটা দেখাতে পারেননি তিনি।

এদিকে নির্বাহী হাকিমের তৎপরতা দেখে অনেক খুচরা বিক্রেতা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এছাড়া বাজারে আর কোনো পেঁয়াজ না থাকায় বিক্রিও বন্ধ হয়ে যায়।

বেলা ১২টায় বাজার ঘুরে আরও দেখা গেল, সবজি বিক্রেতাদের কাছে সব ধরনের সবজিসহ রসুন, আদা থাকলেও পেঁয়াজের ডালা খালি ছিল।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা বিক্রেতা বলেন, প্রশাসনের চাপাচাপির কারণে কেউ ঝুঁকি নিচ্ছে না। পুরাতন পেঁয়াজ ১৭০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছিল। নতুন পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি। পেঁয়াজ আমদানিও নাই।

এক বিক্রেতা বলেন, বৃহস্পতিবার কেজি প্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে যেটুকু পেঁয়াজ পেয়েছিলেন সেটার দাম পড়ছিল ১৭০ টাকা। বেশি দামে বিক্রি করলে প্রশাসন জরিমানা করতে পারে এজন্য ঝুঁকি না নিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক বিক্রেতা বলেন, আড়তে যায়ই ফিরি আইছি। কিনলামও না, বেচলামও না। বাজার ঠিক নাই। ক্যাম্বা কিনবো, আর ক্যাম্বা ব্যাচপো। দুপুরে খুচরা বাজার ঘুরে মাত্র একজনের কাছে কেজি দুই পেঁয়াজের দেখা মিললো সেটাও মান ভালো না।

বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে কিনে কোন বিক্রেতায় কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে রাজি হচ্ছে না। বরং পেঁয়াজ বাদ দিয়ে অন্য পণ্য বিক্রি করা ভালো। এতে ঝামেলামুক্ত থাকা যাচ্ছে।

জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বাজারে পেঁয়াজ খুবই কম ছিল। যেটুকু ছিল সেটা শেষ হয়ে যায়। তবে সমস্যা নাই সন্ধ্যার মধ্যে বাজারে পেঁয়াজ ঢুকবে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি