আ'লীগ নেতা ফরিদ হত্যা

আ'লীগ নেতাসহ ১৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ০৬ মার্চ ২০১৮, ১৮:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

ফরিদ
হত্যার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলাম ফরিদ।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলাম ফরিদ হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা, জেলা পরিষদ সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৮ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি অশোক কুমার সিংহ টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।

মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল হামিদ ভোলা, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মাসুদুল হক, অলোয়া ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন তরফদার, চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শওকত হোসেন, নাসির উদ্দিন রানা, মেহেদী হাসান, লাল মাহমুদ, মাঈনুল হোসেন, সানোয়ার হোসেন বাবু, খোকন মিয়া, খলিলুর রহমান, মামুন সরকার, আবদুল লতিফ, কনিক হাসান ও আলমগীর হোসেন।

এদের মধ্যে আসামি মাঈনুল হোসেন ওরফে মাসুদের বয়স কম হওয়ায় (১৬) তাকে শিশু আদালতে বিচারের জন্য পৃথক চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম ও সহায়তা এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় চিকিৎসক, পুলিশসহ ২৮জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের মধ্যে বিরোধ, ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিরোধ এবং ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ নির্বাচনে নুরুল ইসলামের বিরোধিতা করায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হত্যায় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা পরিকল্পনা করেন। পরে টাকা দিয়ে আসামিদের হত্যার কাজে নিয়োজিত করেন তারা। এই হত্যাকাণ্ডে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন তরফদার পালন করেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালর ৫ ডিসেম্বর রাতে নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রকিবুল ইসলাম ফরিদ নিখোঁজ হন। পরদিন তার বাড়ির পার্শ্বে একটি পুকুরপাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই তার ভাই ফজলুল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তিনি তাহেরুল ইসলাম তোতা, আবদুল হামিদ ভোলা ও নুরুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে একটি সম্পূরক মামলা করেন। আদালত দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।

২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলাটি তদন্তের জন্য ভূঞাপুর থানা থেকে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তকালে আটজন আসামি গ্রেফতার হন। এদের মধ্যে মাঈনুল হোসেন, শওকত হোসেন, মকবুল হোসেন তরফদার, নাসির উদ্দিন রানা ও নুরুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর যুগান্তরে এই ফরিদ হত্যা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে।

মামলার বাদী ফজলুল করিম জানান, যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি দাবি জানান।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল রহমান খান ফারুক যুগান্তরকে বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায়ে আওয়ামী লীগ নেতারা দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×