হুমকি-ধমকিতেও ভয়হীন শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ০৬ মার্চ ২০১৮, ২২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা

মিয়ানমার সেনা, বিজিপি ও নাটালা বাহিনীর অব্যাহত হুমকি-ধমকিকে ভয় পাচ্ছে না সীমান্তের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা। বর্মিবাহিনীর নিয়মিত চাপের মুখেও নোম্যানসল্যান্ড ছাড়তে নারাজ এসব রোহিঙ্গা।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে এপারে আসার সময় বিজিবির বাধার মুখে তুমব্রু সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে অবস্থান নেয় কিছু রোহিঙ্গা। শূন্যরেখা ঘিরে বিজিবি ছয় মাস ধরে কড়া অবস্থানে থাকায় সেখানে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা না পারছে স্বদেশে ফিরতে, না পারছে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে। যদিও বা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সেখানে মানবিক ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার সকালে শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শূন্যরেখার অবস্থানকারী রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, শূন্যরেখার কাঁটাতারের পাশে এসে প্রতিদিন দিনের বেলায় শূন্যরেখা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিচ্ছে মিয়ানমার পুলিশ (বিজিপি) সদস্যরা। মাঝে মাঝে সেনা সদস্যরাও কাঁটাতারের কাছে এসে হুমকি দিচ্ছে। এরা আগে মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়ায় গিয়ে আমাদের একটি গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করার কথা বলেছিল।

তিনি জানান, এতে আমরা সাড়া দেয়নি। আমরা তাদের বলেছি, মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। এটি আর রোহিঙ্গা কমিউনিটি ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখানে বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। এরপর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

দিল মোহাম্মদ আরও জানান, প্রতিনিয়ত দিনে-রাতে কাঁটাতারের কাছে এসে শূন্যরেখার অবস্থানরত রোহিঙ্গা ঝুপড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাথর, ঢিল ছুড়তে থাকে। আর প্রায় সময় ভারী অস্ত্র নিয়ে মহড়া অব্যাহত রেখেছে। এমনকি মাঝে মধ্যে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে সেনা সদস্যরা।

উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে জানিয়ে আরেক রোহিঙ্গা নেতা আরিফ উল্লাহ বলেন, দিনের বেলায় বিজিপি ও নাটালা বাহিনী, আবার রাতের বেলায় সেনাবাহিনী অত্যাচার সহ্য করার মতো নয়। তবুও নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার আশায় শূন্যরেখায় অবস্থান করে যাচ্ছি। কিন্তু তাদের এই হুমকি-ধমকিতে আমরা শূন্যরেখা ছাড়ব না। মরলে এখানে মরব। আর বাঁচলে এখানেই বাঁচব।

আবুল শামা নামের এক রোহিঙ্গা জানান, মিয়ানমারে বর্মিবাহিনীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ছয় মাস আগে শূন্যরেখায় চলে এসেছি। এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থান নেই। বর্ষার সময় কি যে হবে সে চিন্তায় অস্থির। সেখানে আবার মিয়ানমার বাহিনীর অত্যাচার আর গুলির ভয়। তিনি এ ব্যাপারে বিশ্ববাসীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, শত চেষ্টা করেও বর্মিসেনারা রোহিঙ্গাদের শূন্যরেখা থেকে তাড়াতে পারবে না।

রোহিঙ্গা নারী সাবেকুন্নাহার বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপনের মধ্য দিয়ে এখানে আছি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলির ভয়ে শূন্যরেখা থেকে অনেকে পালিয়ে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছে। আমি কিন্তু শূন্যরেখা ছাড়িনি। মরব, তবুও শূন্যরেখা ছাড়ব না।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে আমার বাপ–দাদার ভিটেমাটি। আমরা বাঙালি না, আমরা রোহিঙ্গা। রাখাইনরা যেভাবে মিয়ানমারের নাগরিক, আমরাও তাই। মিয়ানমারে আমরা মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। অবশ্যই রাখাইনরা যে অধিকার নিয়ে আছে, আমাদেরও একই অধিকার দিতে হবে। আমরা আমাদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে চাই।

এ প্রসঙ্গে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান মোবাইলে জানান, তুমব্রু খালের ওপারে নোম্যানসল্যান্ডে প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তারা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

মিয়ানমারের সেনা, বিজিপি ও নাটালা বাহিনীর টহলের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা তাদের নিয়মিত রুটিন ওয়ার্ক। আর বাংকার খনন তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য করতে পারে। সীমান্ত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে দাবি করে বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, এ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter