৬ লাখ টাকা হলেই বাঁচবে জিলাল

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ১২:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

৬ লাখ টাকা হলেই বাঁচবে জিলাল
জিলাল হোসেন। ছবি: যুগান্তর

হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সংসারের সবার মুখে অন্ন তুলে দিতেন যুবক জিলাল হোসেন (৪০)। পরিশ্রমী এ যুবক কাজের নেশায় ছিলেন বিভোর।

সকাল হলেই বের হতেন উপার্জনের আশায়। তার আয়েই বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের অন্নের জোগান হতো। কিন্তু এখন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জিলাল ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী! বিছানা তার এখন নিত্যসঙ্গী।

পাবনার চাটমোহর উপজেলা মূলগ্রাম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের ছকির প্রামাণিকের ছেলে জিলাল।

জানা যায়, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। মৃত্যুর প্রহর গুনছেন জিলাল! তবে অপারেশন করানো হলে সুস্থ হতে পারে জিলাল এমনটিই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর জন্য প্রয়োজন ৫-৬ লাখ টাকা। জিলালের এমন অবস্থা দেখে দিশেহারা স্ত্রী রুমা খাতুন। স্বামীকে বাঁচাতে ছুটছেন দ্বারে দ্বারে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে মাথা ও চোখের অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন জিলাল হোসেন। কাউকে তেমন চিনতে পারছেন না। স্বামীর এমন করুণ অবস্থা দেখে অঝোরে কেঁদে চলেছেন স্ত্রী রুমা খাতুন। আর বাবার এমন অবস্থা দেখে কান্নাকাটি করছে ছেলে রুবেল ও মেয়ে জিম।

যার আয়ে সংসার চলত, সেই ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সংসারে জেঁকে বসেছে অভাব। অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটছে পরিবারটির।

অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে দ্বারে দ্বারে ছুটছেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু কোথাও মিলছে না সহযোগিতা- এমনটিই জানালেন স্বজনরা।

বাবা ছকির হোসেন যুগান্তরকে জানান, প্রথমে পাবনা ও রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয় জিলালকে। সেখানে ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত জিলাল।

পরে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানেও একই কথা বলেন ডাক্তার। এর পর ধারদেনা করে ঢাকা শেরেবাংলা নগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জিলালকে।

সেখানে অধ্যাপক ডা. মো. এমএস জহিরুল হক চৌধুরীকে দেখানোর পর তিনিও একই রোগের কথা বলেন। তবে অপারেশন করালে জিলালের ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক। এর জন্য প্রয়োজন ৫-৬ লাখ টাকা। চার শতক জমির ওপর টিনের ছাপড়াঘর ছাড়া কোনো সম্বল নেই পরিবারটির।

এদিকে বিশাল অঙ্কের টাকার কথা শুনে জিলালকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে দরিদ্র পরিবারটি। টাকার অভাবে এখন বাড়িতে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন জিলাল!

তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পরিবারের সবাই। কোথাও মিলছে না সহযোগিতা! এমন অবস্থা দেখে পাগলপ্রায় পরিবারের সবাই।

অশ্রুসিক্ত নয়নে স্ত্রী রুমা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, ‘গরিবের ঘরে এমন বড়লোকি রোগ হয় কেন? আমার স্বামীকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেন ভাই। তার (জিলাল) কিছু হলে আমার ও ছেলেমেয়ের কী হবে? আমরা যাব কোথায়? আমাদের দুই সন্তান তার বাবার এমন কষ্ট দেখে শুধুই কাঁদে।’

স্বামীকে বাঁচাতে তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

জিলালের পরিবারকে সহযোগিতা করতে চাইলে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে– ০১৭৬৩-৫৫০১৫৬ (বিকাশ)

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×