ময়মনসিংহে মালিক-শ্রমিকদের ডাকা বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার

  ময়মনসিংহ ব্যুরো ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

পুলিশ সুপারের সঙ্গে জেলা মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের কয়েক দফা বৈঠকের পর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবশেষে ৩০ ঘণ্টা (দেড় দিন) পর বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে মালিক-শ্রমিকরা।

ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ময়মনসিংহের সব রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বৈঠক চলাকালী রাত সাড়ে ৭টায় পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ এবং জেলা মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক চলছে। তবে ইতিমধ্যেই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে মালিক-শ্রমিকরা। বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝি। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের না জানিয়ে জেলার বিভিন্নস্থানে বাস চালিয়েছে। এ ছাড়া বিআরটিসির বাস শ্রমিক ও সাধারণ বাসের শ্রমিকদের সঙ্গে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

যত্রতত্র বিআরটিসির বাস চলাচলের প্রতিবাদে সোমবার বেলা দেড়টায় ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাসহ সব রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক-শ্রমিকরা। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটের কারণে মহাবিপাকে ও দুর্ভোগে পড়েন ঢাকাসহ দূর-দূরান্তের যাত্রীরা।

এ সব যাত্রী ভোর থেকে ঘুরে-ফিরে মাসকান্দা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, পাটগুদাম ব্রিজ মোড় ও টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা। কোনো ঘোষণা ছাড়া এভাবে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

তারা জানান, বিআরটিসির নতুন বাসগুলো নগরীতে তথা বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলাচল করায় একদিকে ভাড়া সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে তাদের ভোগান্তি কমেছে।

পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষমান ফুলপুরগামী যাত্রী শফিকুল ইসলাম ও স্বপ্না জানান, বিভিন্ন পরিবহনের বাসগুলো প্রান্তিক যাত্রী ছাড়া ফুলপুর-তারাকান্দার যাত্রী তুলে না। এ নিয়ে প্রায়শ বাক-বিতণ্ডা ও বাসের স্টাফ কর্তৃক হেনস্থা হতে হয়। বর্তমানে বিআরটিসির বাস চলাচল করায় আমাদের যাতায়াত সহজতর ও ভোগান্তিমুক্ত হয়েছে।

একই সুরে কথা বলেন, নগরীর চরপাড়া মোড় ও মাসকান্দা বাস টার্মিনালে অপেক্ষমান ত্রিশাল ও ভালুকাগামী কয়েকজন যাত্রী। তারা জানান, ঢাকাগামী এনা ও সৌখিন সার্ভিসের বাসগুলোতে স্থানীয় যাত্রী উঠাতে চায় না। বর্তমানে বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাস চলাচল করায় আমাদের যাতায়াত সহজলভ্য হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিসির একজন ডিপো কর্মকর্তা জানান, ময়মনসিংহ ডিপো থেকে জেলার বিভিন্নস্থানে বাসগুলো চলাচল করায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী রোধ করছে। এতে করে বিআরটিসির জনপ্রিয়তা বাড়ছে সাধারণ ও কম দূরত্বের যাত্রীদের কাছে।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়ায় সিএনজি-অটোরিকশা অথবা বিকল্প অন্য কোনো ব্যবস্থায় কয়েকগুণ ভাড়া অপচয় ও ভোগান্তি নিয়ে ছুটছেন গন্তব্যে।

এ দিকে পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক ও রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান এক জরুরি বৈঠকে বসেন জেলা মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। ওই বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা মঙ্গলবারও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট অব্যাহত রাখে।

এ নিয়ে জেলা মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের একাধিক বৈঠকের পর সমঝোতার আশ্বাসে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় মালিক-শ্রমিকরা।

জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্তা অভিযোগ করে বলেন, রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি) জেলা মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক না করে সিদ্ধান্ত ছাড়াই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে যত্রতত্র বিআরটিসির গাড়ি চালাচ্ছে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

তিনি বলেন, বিআরটিসির বাস চলাচলে মালিক ও শ্রমিকদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আরটিসির বৈঠক করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিআরটিসি বাস চলাচলের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত