২৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি চরফ্যাশনের অপহৃত কলেজছাত্রী জ্যোতি
jugantor
২৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি চরফ্যাশনের অপহৃত কলেজছাত্রী জ্যোতি

  চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি  

১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪৮:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

জ্যোতি মজুমদার
জ্যোতি মজুমদার

চরফ্যাশন সরকারি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে ২৪ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

চরফ্যাশন থানায় দায়ের করা অপহরণ মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামিদের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে অপহৃত কলেজছাত্রীর পরিবার।

আসামিদের সঙ্গে পুলিশের সখ্যর কারণেই জ্যোতিকে উদ্ধারে পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন জ্যোতির বাবা বিজন মজুমদার।

গত ১৬ নভেম্বর চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশের সড়ক থেকে দিপংকর শীলের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত জ্যোতি মজুমদারকে বলপ্রয়োগ করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এই ঘটনায় ১৯ নভেম্বর জ্যোতির বাবা বিজন মজুমদার চরফ্যাশন থানায় অপহরণ মামলা করেন।

বিজন মজুমদার অভিযোগ করেন, মেয়ে অপহরণের পর গত ১৯ নভেম্বর তিনি চরফ্যাশন থানায় দিপংকরসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধার কিংবা আসামি গ্রেফতারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, আসামিদের সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই  হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে নিয়মিত আসামিদের যোগাযোগের ফলে নানা কাজের অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ চুপচাপ বসে থাকে। নিরুপায় হয়ে বিজন মজুমদার গত ১ নভেম্বর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে জ্যোতিকে উদ্ধারে পুলিশের অনীহার বিষয়টি অবগত করেন।

পুলিশ সুপার জ্যোতিকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেফতারে থানা পুলিশকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। থানা পুলিশ সন্দেহভাজন দু'জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলেও পুলিশ সুপারের দেয়া নির্দেশনাগুলো কার্যকর করেনি বলেও বিজন মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে দিপংকর এবং তার লোকজন মোবাইল ফোনে এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিয়মিত তাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। হুমকি দেয়া এ সব মোবাইল নম্বরগুলো তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু গত ২৪ দিনেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জ্যোতির অবস্থান কিংবা আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এ সব নিয়ে কোনো কাজই করেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিত আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

আসামিদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের কারণে অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধারে আপাতত কোনো আশাই করতে পারছেন না ভিক্টিমের পরিবার।

আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছে। আসামিদের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতার রয়েছে তাদের পরিবার।

বাদীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুন-অর-রশিদ জানান, ঘটনার পর থেকে জ্যোতি মজুমদারের ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ রয়েছে। তবে জ্যোতি মজুমদারসহ আসামিদের অবস্থান ঢাকায় নিশ্চিত করা গেছে। কিন্তু সন্দেহভাজন দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত সব আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

২৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি চরফ্যাশনের অপহৃত কলেজছাত্রী জ্যোতি

 চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি 
১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জ্যোতি মজুমদার
জ্যোতি মজুমদার

চরফ্যাশন সরকারি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে ২৪ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

চরফ্যাশন থানায় দায়ের করা অপহরণ মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামিদের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে অপহৃত কলেজছাত্রীর পরিবার।

আসামিদের সঙ্গে পুলিশের সখ্যর কারণেই জ্যোতিকে উদ্ধারে পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন জ্যোতির বাবা বিজন মজুমদার।

গত ১৬ নভেম্বর চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশের সড়ক থেকে দিপংকর শীলের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত জ্যোতি মজুমদারকে বলপ্রয়োগ করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এই ঘটনায় ১৯ নভেম্বর জ্যোতির বাবা বিজন মজুমদার চরফ্যাশন থানায় অপহরণ মামলা করেন।

বিজন মজুমদার অভিযোগ করেন, মেয়ে অপহরণের পর গত ১৯ নভেম্বর তিনি চরফ্যাশন থানায় দিপংকরসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধার কিংবা আসামি গ্রেফতারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, আসামিদের সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে নিয়মিত আসামিদের যোগাযোগের ফলে নানা কাজের অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ চুপচাপ বসে থাকে। নিরুপায় হয়ে বিজন মজুমদার গত ১ নভেম্বর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে জ্যোতিকে উদ্ধারে পুলিশের অনীহার বিষয়টি অবগত করেন।

পুলিশ সুপার জ্যোতিকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেফতারে থানা পুলিশকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। থানা পুলিশ সন্দেহভাজন দু'জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলেও পুলিশ সুপারের দেয়া নির্দেশনাগুলো কার্যকর করেনি বলেও বিজন মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে দিপংকর এবং তার লোকজন মোবাইল ফোনে এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিয়মিত তাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। হুমকি দেয়া এ সব মোবাইল নম্বরগুলো তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু গত ২৪ দিনেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জ্যোতির অবস্থান কিংবা আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এ সব নিয়ে কোনো কাজই করেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিত আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

আসামিদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের কারণে অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধারে আপাতত কোনো আশাই করতে পারছেন না ভিক্টিমের পরিবার।

আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছে। আসামিদের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতার রয়েছে তাদের পরিবার।

বাদীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুন-অর-রশিদ জানান, ঘটনার পর থেকে জ্যোতি মজুমদারের ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ রয়েছে। তবে জ্যোতি মজুমদারসহ আসামিদের অবস্থান ঢাকায় নিশ্চিত করা গেছে। কিন্তু সন্দেহভাজন দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত সব আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন