কেরানীগঞ্জের সেই প্লাস্টিক কারখানার অনুমোদন ছিল না
jugantor
কেরানীগঞ্জের সেই প্লাস্টিক কারখানার অনুমোদন ছিল না

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি  

১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৩৬:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

আগুনে পুড়ে যাওয়া কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানা
আগুনে পুড়ে যাওয়া কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানা। ফাইল ছবি

কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কারখানাটির অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজম।

বুধবার অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজম সাংবাদিকদের বলেন, এই কারখানার অনুমোদন ছিল না। গত ৫ নভেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন পরিদর্শক এসে কারখানা কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা উপেক্ষা করেই কারখানা চালু ছিল। এখানকার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক আবুল হোসেন, বিস্ফোরক অধিদফতরের সহকারী পরিদর্শক আবুল হাসেম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন জানান, কারখানাটি প্রচুর পরিমাণে এলপি গ্যাসের ব্যবহার হত। এছাড়াও বিভিন্ন কেমিক্যাল তারা ব্যবহার করত। কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেটি তদন্তের পরই জানা যাবে। তবে কারখানার শ্রমিক ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তারা কথা বলে তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, গ্যাস লিকেজের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সংস্থাটির অ্যাম্বুলেন্স শাখার উপ-পরিচালক আবুল হোসেনকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জালাউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও উপ-মহাপরিচালক মো. কামরুল হাসানকে সদস্য সচিব করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই কারখানায় তৃতীয়বারের মতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর ও চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর আগুন লাগে কারখানাটিতে। আগের দুটি অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি। সর্বশেষ বুধবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।

প্রাইম পেট এন্ড প্লাস্টিক কারখানার একজন সাবেক শ্রমিক কবির হোসেন। ভয়াবহ এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার তিনি পুড়ে যাওয়া কারখানা দেখতে এসেছেন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর এখানে কাজ করেছি। কারখানার পরিবেশ শ্রমিকবান্ধব না। ভেতরে প্রচুর কেমিক্যাল ও এলপি গ্যাসের ব্যবহার হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই এসব রাখা হয়। এছাড়াও বিশাল বড় কারখানা হলেও ঢোকার ও বের হওয়ার এইটি মাত্র রাস্তা। জরুরি বহির্গমন পথ নেই। শ্রমিকদের বেতনও ঠিক মত দেয়া হতো না। এসব কারণে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকায় কারখানাটি অবস্থিত। কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকাবাসী প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নভেম্বর মাসে অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানাটি এখান থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য এলাকাবাসী দাবি করেছিল। ওই সময় কিছুদিন বন্ধ ছিল। এরপর আবারও তারা সেটি চালু করে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ নামে প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম থালা ও গ্লাস তৈরির যে কারখানায় আগুন লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেটি ছাড়াও কেরানীগঞ্জের উত্তর শুভাঢ্যা এলাকায় এই কোম্পানির আরও একটি কারখানা রয়েছে। সেখানেও একই পণ্য উৎপাদন করত তারা। যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন ছিল না তাই উত্তর শুভাঢ্যার কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বুধবার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া হিজলতলা এলাকায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি. নামের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুনে পুড়ে ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও ২২ জন গুরুতর দগ্ধ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কেরানীগঞ্জের সেই প্লাস্টিক কারখানার অনুমোদন ছিল না

 কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি 
১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আগুনে পুড়ে যাওয়া কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানা
আগুনে পুড়ে যাওয়া কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানা। ফাইল ছবি

কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কারখানাটির অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজম।

বুধবার অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজম সাংবাদিকদের বলেন, এই কারখানার অনুমোদন ছিল না। গত ৫ নভেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন পরিদর্শক এসে কারখানা কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা উপেক্ষা করেই কারখানা চালু ছিল। এখানকার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক আবুল হোসেন, বিস্ফোরক অধিদফতরের সহকারী পরিদর্শক আবুল হাসেম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন জানান, কারখানাটি প্রচুর পরিমাণে এলপি গ্যাসের ব্যবহার হত। এছাড়াও বিভিন্ন কেমিক্যাল তারা ব্যবহার করত। কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেটি তদন্তের পরই জানা যাবে। তবে কারখানার শ্রমিক ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তারা কথা বলে তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, গ্যাস লিকেজের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সংস্থাটির অ্যাম্বুলেন্স শাখার উপ-পরিচালক আবুল হোসেনকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জালাউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও উপ-মহাপরিচালক মো. কামরুল হাসানকে সদস্য সচিব করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই কারখানায় তৃতীয়বারের মতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর ও চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর আগুন লাগে কারখানাটিতে। আগের দুটি অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি। সর্বশেষ বুধবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।

প্রাইম পেট এন্ড প্লাস্টিক কারখানার একজন সাবেক শ্রমিক কবির হোসেন। ভয়াবহ এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার তিনি পুড়ে যাওয়া কারখানা দেখতে এসেছেন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর এখানে কাজ করেছি। কারখানার পরিবেশ শ্রমিকবান্ধব না। ভেতরে প্রচুর কেমিক্যাল ও এলপি গ্যাসের ব্যবহার হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই এসব রাখা হয়। এছাড়াও বিশাল বড় কারখানা হলেও ঢোকার ও বের হওয়ার এইটি মাত্র রাস্তা। জরুরি বহির্গমন পথ নেই। শ্রমিকদের বেতনও ঠিক মত দেয়া হতো না। এসব কারণে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকায় কারখানাটি অবস্থিত। কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকাবাসী প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নভেম্বর মাসে অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানাটি এখান থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য এলাকাবাসী দাবি করেছিল। ওই সময় কিছুদিন বন্ধ ছিল। এরপর আবারও তারা সেটি চালু করে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ নামে প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম থালা ও গ্লাস তৈরির যে কারখানায় আগুন লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেটি ছাড়াও কেরানীগঞ্জের উত্তর শুভাঢ্যা এলাকায় এই কোম্পানির আরও একটি কারখানা রয়েছে। সেখানেও একই পণ্য উৎপাদন করত তারা। যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন ছিল না তাই উত্তর শুভাঢ্যার কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বুধবার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া হিজলতলা এলাকায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি. নামের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুনে পুড়ে ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও ২২ জন গুরুতর দগ্ধ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।