গোয়ালঘরের সেই বৃদ্ধার পাশে ইউএনও

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

বৃদ্ধা নূরজাহান বিবির হাতে গরু তুলে দিচ্ছেন ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান
বৃদ্ধা নূরজাহান বিবির হাতে গরু তুলে দিচ্ছেন ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান

গোয়ালঘরে মানবেতর জীবনযাপন করতেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মৌডুবির খাসমহল গ্রামের ৭২ বছরের বৃদ্ধা নূরজাহান বিবি।

হাঁটাচলা করাই তার কষ্টসাধ্য ছিল। কিন্তু তিনি পেটের তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েছিলেন। রোগা শরীরে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হয়েছিল তাকে।

বৃদ্ধা নূরজাহানের দুর্বিষহ এই জীবন নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর যুগান্তরের অনলাইন ভার্সনে ‘পান্তা ভাত খেয়ে গোয়ালঘরে জীবন কাটছে বৃদ্ধা নূরজাহানের’ ও বুধবার প্রিন্ট ভার্সনে ‘গোয়ালঘরে বৃদ্ধার মানবেতর জীবন’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি দেখে সেই নূরজাহানের জন্য সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাশফাকুর রহমান। জীবনের গতি পাল্টে দিতে বুধবার বিকালে ওই বৃদ্ধাকে দেয়া হয়েছে একটি গাভী, নগদ অর্থ, দুইটি শাড়ি কাপড় ও শীতবস্ত্র।

নূরজাহানের মানবেতর জীবনের প্রতিবেদনটি যুগান্তরে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। অনলাইনের প্রতিবেদনটি দেখেই ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে যুগান্তরের প্রতিবেদক কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নূরজাহানকে সহযোগিতা করার ইচ্ছে পোষণ করেন।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীর ভিক্ষুক তহবিল থেকে জীবনমান উন্নয়নের জন্য নূরজাহানকে ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় কেনা একটি গাভী এবং শীতবস্ত্র হিসেবে একটি কম্বল দেয়া হয়।

এ ছাড়া ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা ও দুইটি শাড়ি কাপড় তার হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি তার পুনর্বাসনের জন্য খাসজমি ও একটি নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন ওই ইউএনও।

অনুভূতি জানতে চাইলে প্রতিবেদককে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে নূরজাহান বিবি বলেন, ‘আমার দুঃখ এ্যাতদিন কেউ দ্যাহে নাই। আমনে (আপনি) গ্যাছেন, আমনে দ্যাখছেন। আপনার আর স্যারের (ইউএনও) লাইগ্যা দোয়া করি। স্যার আর আমনেরে আল্লাহ অনেক বড় করুক।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘আমি যুগান্তর পত্রিকা ও প্রতিনিধি কামরুলকে ধন্যবাদ জানাই। তারা বিষয়টি তুলে আনায় সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং বৃদ্ধাকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী সরকারি তহবিল থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে সহযোগিতা করেছি। আশা করছি, তার জীবনের গতি পাল্টে যাবে, কেটে যাবে দৈন্যদশা।’

তিনি বলেন, ‘ওই বৃদ্ধার পুনর্বাসনের জন্য ১০-১৫ শতাংশ খাসজমি ও নতুন ঘর দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে খাসজমি দেয়ার জন্য তার কাছ থেকে আবেদন নেয়া হয়েছে।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×