সীমানা জটিলতায় প্রাথমিকে ভর্তি অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

  গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩১:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

সীমানা জটিলতার কারণে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির জটিলতা দেখা দিয়েছে।

ফলে ভর্তির অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরাও পড়েছেন বিড়ম্বনায়। দূরের বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি করাতে গিয়ে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

২০১৯ সালের ৪ আগস্ট প্রাথমিক অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাসুদ ভুইয়া স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সীমানা বহির্ভূত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে না।

ওই পরিপত্রের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই বাড়ির পাশের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। ৩-৫ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে তাদের। এতে করে বিপাকে পড়েছেন শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাঁচশিশা ও চলনালী গ্রামের শিক্ষার্থীরা। তাদের গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই। ওই দুই গ্রামের শিক্ষার্থী গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিধুলি ও দক্ষিণ নারিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তির সুযোগ পেত। এ বিদ্যালয়গুলোর গড় দূরত্ব ১-২ কিলোমিটারের মধ্যে।

ওই দুই গ্রামের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাহবুর রহমান শাহ, আলতাব হোসেন, খয়ের উদ্দিনসহ কমপক্ষে ১৫ জন অভিযোগ করেন, নতুন বছরের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ওই তিন বিদ্যালয়ে ধরনা দিয়েও তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে পারছেন না। এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরেক বিদ্যালয়ে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে বিদায় করছেন অভিভাবকদের।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঠেলাঠেলিতে শিশু শিক্ষার্থীদের ভর্তি অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে এ সব অভিভাবক স্থানীয় এমপি ও শিক্ষা কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলার সোনাবাজু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পাশের বড়াইগ্রাম উপজেলা সীমানায় অবস্থিত। বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকোরী ও জালশুকা গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত সোনাবাজু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে আসছে।

নতুন পরিপত্র জারির পর থেকে ওই দুই গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চার কিলোমিটার দূরের নিশ্চিন্তপুর ও রয়নাভরট বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়তে হচ্ছে এ শিক্ষার্থীদের। ফলে ওই এলাকার অভিভাবকরা তাদের শিশু সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন।

উপজেলার কম-বেশি সব বিদ্যালয়েই ভর্তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের।

যোগাযোগ করলে ওই সব বিদ্যালয় প্রধানরা জানান, সরকারি পরিপত্রের কারণে বিদ্যালয়ের সীমানা বহির্ভূত এলাকার কোনো শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা যাচ্ছে না। ফলে ওই সব এলাকার শিক্ষার্থী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিপত্রের বাধ্যবাধকতায় ভর্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ দুর্ভোগ সইতে হবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের। সরকারি পরিপত্রের বাইরে ভর্তি করার কোনো সুযোগ নেই।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত