বিদেশ থেকে বাবার পাঠানো মোবাইলই কাল হল শিশু বিদয়ের

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

ইসমাইল হোসেন বিদয়
ইসমাইল হোসেন বিদয়। ফাইল ছবি

বিদেশ থেকে বাবার পাঠানো মোবাইল ফোনই কাল হল শিশু ইসমাইল হোসেন বিদয়ের। একটি মোবাইল ফোনের জন্যই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

পাশের বাড়ির কিশোর শাহরিয়ার মারুফ ওরফে সাইমিন তাকে পিটিয়ে হত্যার পর খোয়াই নদীতে লাশ ফেলে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকে সে অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে। এক মাসের পরিকল্পনায় সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটনায়।

হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য দিয়েছে গ্রেফতারকৃত সাইমিন নিজেই।

তার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বুধবার রাতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

তিনি বলেন, গত ১০ জানুয়ারি উত্তর তেঘরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ফারুক মিয়ার ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইসমাইল হোসেন বিদয় (১০) পোদ্দারবাড়ি এলাকায় নাটক দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী শাহরিয়ার মারুফ ওরফে সাইমিন। কিন্তু রাত ৮টা পর্যন্ত বিদয় বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা ও চাচারা বিদয়ের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পান।

আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে মা শাহেনা আক্তার ওই দিন সদর মডেল থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়রি করেন। বিভিন্ন মাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদও প্রচার করা হয়। পুলিশও তাকে খুঁজতে থাকে।

১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া গ্রামের পাশে খোয়াই নদীর কিনারায় পানিতে একটি লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি থানায় অবহিত করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. রবিউল ইসলাম, সদর থানার ওসি মো. মাসুক আলী, পরিদর্শক (অপারেশন) দৌস মোহাম্মদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি থেকে লাশ উদ্ধার করে।

পরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা লাশটি ইসমাইল হোসেন বিদয়ের বলে শনাক্ত করেন। নিহতের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহত বিদয়ের চাচা মো. টেনু মিয়া বাদী হয়ে মঙ্গলবার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলীকে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, তদন্তকারী অফিসারসহ পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহরিয়ার মারুফ ওরফে সায়মিনকে তেঘরিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। অবশেষে সে বুধবার সন্ধ্যায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, বিদয়ের মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইমিন উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন অনুতপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, ডিআই-১ কাজী কামাল উদ্দিন, সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী, এসআই মো. সাহিদ মিয়া প্রমুখ।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×