ফিল্মি স্টাইলে রিফাতকে দা দিয়ে কোপায় আসামিরা: আদালতে সাক্ষীরা

  বরগুনা ও দক্ষিন প্রতিনিধি ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

রিফাত শরীফ। ফাইল ছবি

বরগুনায় আলোচিত মিন্নির স্বামী শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় দায়রা আদালতে রোববার তিনজন সাক্ষ্যের ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

বরগুনা দায়রা ও জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে মো. হারুণ, মো. সজল ও আবদুল হাই আল হাদি সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আবদুল হাই হাদি রিফাত হত্যার সেদিনের নৃশংসতার প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিলেন আদালতে।

ওই আদালতে এ পর্যন্ত ১৩জন সাক্ষ্যর জেরা সমাপ্ত হল।

সোমবার দায়রা জজ আদালত তিনজন ও শিশু আদালতে দুইজন সাক্ষ্য দিবেন।

রোববার বরগুনা জেলা কারাগার হতে পুলিশ পাহারায় সকাল ৯টায় ৮ জন প্রাপ্ত বয়স্ক আসামিকে দায়রা আদালতে উপস্থিত করেন।

আসামিরা হল রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ূম রাব্বি আকন, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, সাগর, কামরুল হাসান সায়মুন ও মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত।

জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও আদালতে উপস্থিত হয়।আসামি মুছা পলাতক রয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯টায় আদালত এজলাসে বসেন দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান। প্রথমে সাক্ষ্য দিতে উঠেন মো. হারুণ। তার সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলে সাক্ষ্য দেন মো. সজল। পরে সাক্ষ্য দিয়েছেন আবদুল হাই আল হাদি।

২৬ জুন ঘটনার সময় হাদি ও তার ভাই লিটন ঘটনাস্থলে দোকানে ছিল। লিটন ওই ঘটনার দেখা সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে।

হাদি যুগান্তরকে বলেন, আমি ও আমার বড় ভাই ক্যালিক্স একাডেমির পাশে দোকানদারি করি। ঘটনার সময় নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজি, রিশান ফরাজিসহ আসামিরা বগি দা দিয়ে রিফাত শরীফকে এলাপাথারি কোপায়। এ ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা ওই রিফাত শরীফকে বরগুনা সরকারি কলেজ গেট থেকে জামার কলার ধরে টেনে কিল ঘুষি মারতে মারতে ক্যালিক্স একাডেমির সামনে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, ওই সময় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি স্বাভাবিক গতিতে আসামিদের পিছনে পিছনে হেটে যাচ্ছিল। মিন্নি ইচ্ছা করলে ডাক চিৎকার দিয়ে লোকজন জড়ো করতে পারতেন। ক্যালিক্স একাডেমির সামনে রাস্তার উপরে বগি দাও দিয়ে সিনেমা স্টাইলে বগি দা দিয়ে রিফাত শরীফকে আসামিরা কোপায়।

সাক্ষ্য শেষে আসামিদেরকে আবার বরগুনা কারাগারে পাঠায় আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, যারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা সকলেই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য আবদুল হাই হাদি দেখা সাক্ষ্য। তিনি সঠিকভাবে হত্যার বর্ণনা দিতে পেরেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করে বাদী ন্যায় বিচার পাবেন।

আয়শা সিদ্দিকা সিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম যুগান্তরকে বলেন, আদালতে সাক্ষীরা যেভাবে সাক্ষ্য দিয়েছে তাতে আমার আসামি ন্যায়বিচার পাবেন।

তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি মিন্নির বিরুদ্ধে দায়রা আদালত অভিযোগ গঠন করেছে। সেই আদেশের বিরুদ্ধে মিন্নির পক্ষে ১২ জানুয়ারি হাই কোর্টে কোয়াশমেন্ট মামলা ফাইল করা হয়েছে। যে কোনো দিন শুনানি হতে পারে।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত