রাস্তার নিম্নমানের কাজ বন্ধ করায় প্রকৌশলীকে পেটালেন আ’লীগ নেতার ছেলে

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৫০:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

সেলিম আহাম্মেদ। ফাইল ছবি

রাজশাহীর বাঘায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী। এ সময় ঠিকাদারের ছেলে ওই উপজেলা প্রকৌশলীকে মারপিট করে লাঞ্ছিত করেন।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আধাবেলা কলম বিরতি রাখেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরের দিকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে।

জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিস থেকে হাবাসপুর এলাকায় ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার সাব-বেইজ রাস্তা নির্মাণ কাজের বরাদ্দ পায় রাজশাহীর ‘মমো এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে এই কাজটি ক্রয় করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন স্থানীয় ঠিকাদার ও বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকার। এ কাজটি দেখভাল করেন ঠিকাদারের বড় ছেলে সেলিম আহাম্মেদ।

এ রাস্তাটি নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার সকালে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশালী ফরিদ আহাম্মেদ ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। সেখানে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে- তা প্রমাণ পেয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে অফিসে চলে আসেন তিনি।

পরে স্থানীয় ঠিকাদার ও বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকারের বড় ছেলে সেলিম আহাম্মেদ ওই প্রকৌশলীর অফিস কক্ষে গিয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

লাঞ্ছনার শিকার উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশালী ফরিদ আহাম্মেদ বলেন, সেলিম আহাম্মেদ অফিসে এসে কাজ বন্ধ রাখার কারণ জানতে চেয়ে অকথ্যভাষায় কথাবার্তা বলে এবং আমাকে মারপিট করে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেন। এ সময় অন্যান্য সহকর্মীরা এগিয়ে এসে আমাকে রক্ষা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম আহাম্মেদ বলেন, ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারপিট করা হয়নি। কেন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন?- তা জানতে চেয়েছিলাম। তবে তাকে রাগ করে একটা ধাক্কা দিয়েছিলাম’।

বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন রেজা বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত