চুয়াডাঙ্গায় মৃত ঘোষণার পর মায়ের কোলে নড়ে উঠল নবজাতক!

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে নবজাতককে চিকিৎসা দেয়া হয়
ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে নবজাতককে চিকিৎসা দেয়া হয়

চুয়াডাঙ্গায় সদ্য প্রসূত জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর অযত্নে রেখে দেয়া হয়েছিল খালি মেঝের ওপর। তারপর পলিথিনে মোড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল হাসপাতালের আয়ারা!

এ সময় মায়ের ইচ্ছে হলো শেষবারের মতো একবার কোলে নিয়ে দেখি সন্তানকে। অমনিই মায়ের কোলে নড়ে উঠল সদ্যভূমিষ্ঠ জান্নাতুল। আবার ডাকা হল ডাক্তার।

ডাক্তার এসে শিশু জান্নাতুলকে স্থানান্তর করলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছে জান্নাতুল। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। মায়ের চোখেমুখে এক কাড়ি হাসি।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মুদি দোকানি আবদুল হালিম ও জিনিয়া খাতুনের বিয়ে হয় বেশ কয়েক বছর আগে। এরই মধ্যে জিনিয়ার গর্ভে সন্তান আসে। তাকে নিয়মিত চেকআপ করতেন জেলা শহরের উপশম নার্সিং হোমের স্বত্বাধিকারী ডা. জিন্নাতুল আরা।

রোববার বিকালে জিনিয়ার পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে নেয়া হয় ডা. জিন্নাতুল আরার কাছে। সেখানে তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিনিয়া। ভোর ৪টার দিকে কন্যাসন্তান প্রসব করেন জিনিয়া খাতুন।

জিনিয়া খাতুন বলেন, ‘ভোরে আমাকে বলা হলো বাচ্চা মারা গেছে। এরপর আমরা পরিবারের অন্যান্যকে জানাই। দাফন কাফনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে থাকে স্বামী ও স্বজনরা। এরই মধ্যে শিশুটিকে অযত্ন অবহেলায় মেঝের ওপর রেখে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘মৃত বলে তাকে একটি পলিথিন এনে মুড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। এ সময় আমি কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে একবার শেষবারের মতো কোলে নিয়ে দেখতে চাই। কোলে নিতেই আমার মেয়ে নড়ে ওঠে। এ সময় পুনরায় ডা. জিন্নাতুল আরাকে ডাকা হলে তিনি শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।’

জিনিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ডাক্তারের কথায় বিশ্বাস করলে পলিথিনের মধ্যে আমার মেয়ে মরে থাকত।’

এদিকে সোমবার সকালে ওই শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।

শিশুর দাদি শাহারন বেগম বলেন, ‘ও সাত মাসে জন্ম নিয়েছে। আমি ওর নাম রেখেছি জান্নাতুল। সে এখন ভালোই আছে। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। আমার বিশ্বাস জান্নাতুল বেঁচে থাকবে।’

এ ব্যাপারে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, ‘সময় হওয়ার আগেই শিশুটি জন্ম নিয়েছে। তাকে ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আপাতত সে সুস্থ আছে। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না’।

এ ব্যাপারে ডা. জিন্নাতুল আরা যুগান্তরকে বলেন, ‘শিশুটি যখন হয় একেবারেই শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল না। নাভির কাছে কেবল ঢিবঢিব শব্দ ছিল। চার ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×