মোবাইলে অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে ঝগড়ায় খুন হন বেল্লাল, দাবি স্ত্রীর
jugantor
মোবাইলে অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে ঝগড়ায় খুন হন বেল্লাল, দাবি স্ত্রীর

  চরফ্যাশন প্রতিনিধি  

২১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৪২:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে নিখোঁজ সুকানির স্বজনরা।
চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে নিখোঁজ সুকানির স্বজনরা। ছবি: যুগান্তর

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীতে বালুবাহী জাহাজ থেকে পড়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন সুকানি বেল্লাল হোসেন (২৮)। চার দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ সুকানির মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

স্বামীর খোঁজে রাত-দিন নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন তার স্ত্রী রিতু ওরফে সুনিয়া (২২)। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, আমার স্বামী জাহাজ থেকে পড়ে যাননি, অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখে ফেলা নিয়ে ঝগড়ার দ্বন্দ্বে তাকে মেরে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিখোঁজ বেল্লালের স্ত্রী রিতু দাবি করেন, পাঁচ বছর আগে রঙ নম্বরে ফোনকলের সূত্রে বেল্লালের সঙ্গে তার পরিচয় ও বিয়ে হয়। তার স্বামীর মোবাইলে তাদের দুজনের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি থাকায় ওই মোবাইলটি তিনি কারও হাতে দিতেন না।

ওই ছবি দেখায় গত চার-পাঁচ দিন আগে তার স্বামী বেল্লালের সঙ্গে জাহাজের স্টাফ আক্তার হোসেনের ঝগড়া হয়। এ কারণে তাকে মেরে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

সে যদি নদীতে পড়ে যেত, তবে মোবাইলটিও নদীতে পড়ে যেত। মোবাইলটি আক্তারের হাতে এলো কী করে?

এদিকে সুকানি নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাই মাহাবুব হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ এনে সোমবার রাতে শশীভূষণ থানায় জাহাজটির তিন মালিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলায় জাহাজ মালিক মানিক হাজারী, সোহান সিকদার ও মানিক সিকদার এবং জাহাজের স্টাফ আক্তার হোসেন, সুজাউদ্দিন, এমরান ও ওমরকে আসামি করা হয়েছে।

এর পর থানা পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত জাহাজের চার স্টাফ আক্তার হোসেন, সুজাউদ্দিন, এমরান ও ওমরকে আদালতে সোপর্দ করেছে।

শশীভূষণ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এ ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ সুকানির মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি বরিশাল থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

তবে বেল্লালের বড় ভাই কবির হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, তল্লাশি অভিযানের নামে ডুবুরি দল লোক দেখানো অভিযান চালিয়েছে। সঠিকভাবে তল্লাশি চালালে আমার ভাইকে পাওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. এমরান হোসেন বলেন, ঘটনার পর দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল এবং তার আশপাশে নদীতে তল্লাশি চালিয়েছে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দল। কিন্তু লাশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

জাহাজের স্টাফরা আমাদের সঠিক স্থান বলতে পারেননি। তাই তল্লাশি অভিযানে হিমসিম খেতে হয়েছে ডুবুরি দলকে।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে বকসীসংলগ্ন নদী থেকে বালি উত্তোলন করে জাহাজটি লেতরা ব্রিজ ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই সময় জাহাজ থেকে নিখোঁজ হন সুকানি বেল্লাল হোসেন। জাহাজ স্টাফ আক্তার হোসেন তেঁতুলিয়া নদী থেকে মায়া নদীর প্রবেশমুখে ডুবোচরে ধাক্কা লেগে সুকানি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

তবে নিখোঁজ বেল্লালের স্ত্রীর রিতু ওরফে সুনিয়ার অভিযোগ, তার স্বামীকে মেরে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

রিতুর মা পারুল বেগম জানান, শনিবার বিকালে এ ঘটনা শোনার পর থেকে তাদের নাওয়া-খাওয়া বন্ধ।

তেঁতুলিয়া নদীতে স্বামীর লাশ মিলবে এবং লাশ নিয়েই বাড়ি ফিরবেন– এ আশায় নদীটির তীরে স্বজনদের নিয়ে লাশের অপেক্ষায় আছেন বেল্লালের স্ত্রী রিতুসহ স্বজনরা।

মোবাইলে অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে ঝগড়ায় খুন হন বেল্লাল, দাবি স্ত্রীর

 চরফ্যাশন প্রতিনিধি 
২১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে নিখোঁজ সুকানির স্বজনরা।
চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে নিখোঁজ সুকানির স্বজনরা। ছবি: যুগান্তর

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীতে বালুবাহী জাহাজ থেকে পড়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন সুকানি বেল্লাল হোসেন (২৮)। চার দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ সুকানির মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

স্বামীর খোঁজে রাত-দিন নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন তার স্ত্রী রিতু ওরফে সুনিয়া (২২)। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, আমার স্বামী জাহাজ থেকে পড়ে যাননি, অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখে ফেলা নিয়ে ঝগড়ার দ্বন্দ্বে তাকে মেরে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিখোঁজ বেল্লালের স্ত্রী রিতু দাবি করেন, পাঁচ বছর আগে রঙ নম্বরে ফোনকলের সূত্রে বেল্লালের সঙ্গে তার পরিচয় ও বিয়ে হয়। তার স্বামীর মোবাইলে তাদের দুজনের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি থাকায় ওই মোবাইলটি তিনি কারও হাতে দিতেন না।

ওই ছবি দেখায় গত চার-পাঁচ দিন আগে তার স্বামী বেল্লালের সঙ্গে জাহাজের স্টাফ আক্তার হোসেনের ঝগড়া হয়। এ কারণে তাকে মেরে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

সে যদি নদীতে পড়ে যেত, তবে মোবাইলটিও নদীতে পড়ে যেত। মোবাইলটি আক্তারের হাতে এলো কী করে?

এদিকে সুকানি নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাই মাহাবুব হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ এনে সোমবার রাতে শশীভূষণ থানায় জাহাজটির তিন মালিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলায় জাহাজ মালিক মানিক হাজারী, সোহান সিকদার ও মানিক সিকদার এবং জাহাজের স্টাফ আক্তার হোসেন, সুজাউদ্দিন, এমরান ও ওমরকে আসামি করা হয়েছে।

এর পর থানা পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত জাহাজের চার স্টাফ আক্তার হোসেন, সুজাউদ্দিন, এমরান ও ওমরকে আদালতে সোপর্দ করেছে।

শশীভূষণ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এ ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ সুকানির মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি বরিশাল থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

তবে বেল্লালের বড় ভাই কবির হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, তল্লাশি অভিযানের নামে ডুবুরি দল লোক দেখানো অভিযান চালিয়েছে। সঠিকভাবে তল্লাশি চালালে আমার ভাইকে পাওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. এমরান হোসেন বলেন, ঘটনার পর দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল এবং তার আশপাশে নদীতে তল্লাশি চালিয়েছে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দল। কিন্তু লাশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

জাহাজের স্টাফরা আমাদের সঠিক স্থান বলতে পারেননি। তাই তল্লাশি অভিযানে হিমসিম খেতে হয়েছে ডুবুরি দলকে।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে বকসীসংলগ্ন নদী থেকে বালি উত্তোলন করে জাহাজটি লেতরা ব্রিজ ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই সময় জাহাজ থেকে নিখোঁজ হন সুকানি বেল্লাল হোসেন। জাহাজ স্টাফ আক্তার হোসেন তেঁতুলিয়া নদী থেকে মায়া নদীর প্রবেশমুখে ডুবোচরে ধাক্কা লেগে সুকানি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

তবে নিখোঁজ বেল্লালের স্ত্রীর রিতু ওরফে সুনিয়ার অভিযোগ, তার স্বামীকে মেরে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

রিতুর মা পারুল বেগম জানান, শনিবার বিকালে এ ঘটনা শোনার পর থেকে তাদের নাওয়া-খাওয়া বন্ধ।

তেঁতুলিয়া নদীতে স্বামীর লাশ মিলবে এবং লাশ নিয়েই বাড়ি ফিরবেন– এ আশায় নদীটির তীরে স্বজনদের নিয়ে লাশের অপেক্ষায় আছেন বেল্লালের স্ত্রী রিতুসহ স্বজনরা।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন