মোবাইল চুরির অপবাদে পরীক্ষার্থীকে মারধর
jugantor
মোবাইল চুরির অপবাদে পরীক্ষার্থীকে মারধর

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:০৬:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

মোবাইল চুরির অপবাদে পরীক্ষার্থীকে মারধর

মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে বরগুনার আমতলী উপজেলায় তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মোটরসাইকেলচালক সুজন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম সৌরভ ডাকুয়া।

সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার তারিকাটা বিদ্যালয়ের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্কুলছাত্র সৌরভ ডাকুয়াকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের থেকে এ বছর সৌরভ ডাকুয়া ও গোবিন্দ কর্মকার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তারা ওই বিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে আসছে।

গত রোববার রাতে হোস্টেল থেকে গোবিন্দ কর্মকারের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এ মোবাইল চোর শনাক্তের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় তারিকাটা গ্রামের নিজাম ফকিরের কাছে যায়।

ওই ফকির আয়না পড়ার মাধ্যমে সৌরভ মোবাইল চুরি করেছে বলে দেখতে পায়। পরে গোবিন্দ কর্মকার স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক সুজন ও তার সহযোগী শামীম গাজী, হাসান, রাজীবসহ ৭-৮ জনকে সৌরভের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধারের জন্য ভাড়া করে।

সোমবার রাত ১০টার দিকে সৌরভকে বিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে ধরে নিয়ে যায় সুজনসহ বখাটেরা। পরে হোস্টেলের পেছনে একটি বাগানে নিয়ে মোবাইল চুরির অপবাদ এনে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। সৌরভের চিৎকারে স্থানীয় শাহীন, আলমগীর, খলিল ও সোহেল এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে স্বজনদের খবর পেয়ে তারা এসে ওই দিন গভীর রাতে সৌরভকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বখাটেরা মারধর করে যাওয়ার সময় সৌরভকে শাসিয়ে যায়, এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে জানান সৌরভ।

এ ঘটনায় সৌরভের লেখাপড়া হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান সৌরভের বাবা সন্তোষ ডাকুয়া।

সৌরভকে উদ্ধারকারী শাহিন বলেন, রাতে বিদ্যালয়ের পেছনে কান্নাকাটির শব্দ শুনে আমরা ৫-৬ জনে গিয়ে দেখি সৌরভকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সুজন, শামীম গাজী, হাসান ও রাজীবসহ ৭-৮ জনে মারধর করছে। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা উল্টে আমাদের হুমকি দেয়।

আহত সৌরভ জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মোবাইল চুরির অপবাদ এনে বেধড়ক মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এদিকে সুজন বলেন, সামান্য কিছু ঘটেছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকরা বসে মিটমাট করে দেবেন।

আহত সৌরভের বাবা সন্তোষ ডাকুয়া বলেন, বখাটেরা আমার ছেলেকে মারধর করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকেও দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সৌরভের বাম পায়ে আঘাতসহ শরীর বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম রয়েছে। সৌরভকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সুজন নামের এক মোটরসাইকেলচালক আমার বিদ্যালয়ের এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী সৌরভকে মরধর করেছে। আমি এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, বাইরের লোকজন এসে আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রকে মারধর করবে তা মেনে নেয়া যায় না।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোবাইল চুরির অপবাদে পরীক্ষার্থীকে মারধর

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
২১ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মোবাইল চুরির অপবাদে পরীক্ষার্থীকে মারধর
বরগুনার আমতলীতে আহত স্কুলছাত্র সৌরভ ডাকুয়া। ছবি: যুগান্তর

মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে বরগুনার আমতলী উপজেলায় তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মোটরসাইকেলচালক সুজন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম সৌরভ ডাকুয়া।

সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার তারিকাটা বিদ্যালয়ের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্কুলছাত্র সৌরভ ডাকুয়াকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের থেকে এ বছর সৌরভ ডাকুয়া ও গোবিন্দ কর্মকার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তারা ওই বিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে আসছে।

গত রোববার রাতে হোস্টেল থেকে গোবিন্দ কর্মকারের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এ মোবাইল চোর শনাক্তের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় তারিকাটা গ্রামের নিজাম ফকিরের কাছে যায়।

ওই ফকির আয়না পড়ার মাধ্যমে সৌরভ মোবাইল চুরি করেছে বলে দেখতে পায়। পরে গোবিন্দ কর্মকার স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক সুজন ও তার সহযোগী শামীম গাজী, হাসান, রাজীবসহ ৭-৮ জনকে সৌরভের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধারের জন্য ভাড়া করে।

 সোমবার রাত ১০টার দিকে সৌরভকে বিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে ধরে নিয়ে যায় সুজনসহ বখাটেরা। পরে হোস্টেলের পেছনে একটি বাগানে নিয়ে মোবাইল চুরির অপবাদ এনে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। সৌরভের চিৎকারে স্থানীয় শাহীন, আলমগীর, খলিল ও সোহেল এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে স্বজনদের খবর পেয়ে তারা এসে ওই দিন গভীর রাতে সৌরভকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বখাটেরা মারধর করে যাওয়ার সময় সৌরভকে শাসিয়ে যায়, এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে জানান সৌরভ।

এ ঘটনায় সৌরভের লেখাপড়া হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান সৌরভের বাবা সন্তোষ ডাকুয়া।

সৌরভকে উদ্ধারকারী শাহিন বলেন, রাতে বিদ্যালয়ের পেছনে কান্নাকাটির শব্দ শুনে আমরা ৫-৬ জনে গিয়ে দেখি সৌরভকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সুজন, শামীম গাজী, হাসান ও রাজীবসহ ৭-৮ জনে মারধর করছে। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা উল্টে আমাদের হুমকি দেয়।
 
আহত সৌরভ জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মোবাইল চুরির অপবাদ এনে বেধড়ক মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এদিকে সুজন বলেন, সামান্য কিছু ঘটেছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকরা বসে মিটমাট করে দেবেন।

আহত সৌরভের বাবা সন্তোষ ডাকুয়া বলেন, বখাটেরা আমার ছেলেকে মারধর করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকেও দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সৌরভের বাম পায়ে আঘাতসহ শরীর বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম রয়েছে। সৌরভকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সুজন নামের এক মোটরসাইকেলচালক আমার বিদ্যালয়ের এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী সৌরভকে মরধর করেছে। আমি এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, বাইরের লোকজন এসে আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রকে মারধর করবে তা মেনে নেয়া যায় না।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন