গোয়ালন্দে যুবকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা ও ক্রসফায়ার আতঙ্কে বৃদ্ধা মা
jugantor
গোয়ালন্দে যুবকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা ও ক্রসফায়ার আতঙ্কে বৃদ্ধা মা

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি  

২১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:১৪:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে জামাল পত্তনদারের মায়ের সংবাদ সম্মেলন
গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে জামাল পত্তনদারের মায়ের সংবাদ সম্মেলন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জামাল পত্তনদার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর প্রতিবাদে পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।

গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোমবার বিকালে জামালের বিরুদ্ধে নতুন করে মিথ্যা মামলা দায়ের এমনকি ক্রসফায়ারের আশঙ্কা করেছেন তার বৃদ্ধা মা সাহেরা বেগম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামাল পত্তনদারের বড় ভাই আবদুস সালাম পত্তনদার।

জামাল পত্তনদার উপজেলার দৌলতদিয়া ফেলু মোল্লার পাড়ার হোসেন পত্তনদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

জামাল পত্তনদারের মা বলেন, রাজবাড়ী জেলা কারাগার থেকে একটি মিথ্যা মামলায় মুক্তি পেয়ে এক বছর ৪ মাস পর ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তার ছেলে বের হয়। তাকে আনতে পরিবারের সবাই জেলা কারাগারের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় আমাদের সবার সামনে থেকে রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের একটি দল জামাল পত্তনদারকে ফের আটক করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। আমার ছেলেকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মারপিট করে বাম পা ভেঙ্গে ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনে একটি ও ডাকাতির প্রস্তুতির আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। দুইটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে রাজবাড়ীর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

জামালের বড় ভাই আবদুস সালাম পত্তনদার দাবি করেন, জামাল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে রক্ষা পেতে পলাতক অবস্থায় ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফরিদপুরের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ২৬ এপ্রিল মিথ্যা মামলায় জড়িত করে। ওই মামলায় ১ বছর ৪ মাস জেল খাটার পর ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করলে ১৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়।

জামালের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জামিন পেয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে রাজবাড়ী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পায়। তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিপন হত্যা মামলা দেয়া হয়। অথচ ওই সময় জামাল যশোর শহরে থেকে একটি কারখানায় কাজ করতো। যার প্রমাণ সেখানকার সিসি ক্যামেরায় তার উপস্থিতি রয়েছে।

পরিবারের সবার আশঙ্কা কারাগারে বন্দি জামাল আবারো জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হলে তাকে আবার পুলিশ গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এমনকি প্রাণনাশের মতো ক্ষতি করতে পারে। তাই অবিলম্বে আমরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি না করতে সবার প্রতি আবেদন করছি।

গোয়ালন্দে যুবকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা ও ক্রসফায়ার আতঙ্কে বৃদ্ধা মা

 গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
২১ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে জামাল পত্তনদারের মায়ের সংবাদ সম্মেলন
গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে জামাল পত্তনদারের মায়ের সংবাদ সম্মেলন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জামাল পত্তনদার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর প্রতিবাদে পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।

গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোমবার বিকালে জামালের বিরুদ্ধে নতুন করে মিথ্যা মামলা দায়ের এমনকি ক্রসফায়ারের আশঙ্কা করেছেন তার বৃদ্ধা মা সাহেরা বেগম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামাল পত্তনদারের বড় ভাই আবদুস সালাম পত্তনদার।

জামাল পত্তনদার উপজেলার দৌলতদিয়া ফেলু মোল্লার পাড়ার হোসেন পত্তনদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

জামাল পত্তনদারের মা বলেন, রাজবাড়ী জেলা কারাগার থেকে একটি মিথ্যা মামলায় মুক্তি পেয়ে এক বছর ৪ মাস পর ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তার ছেলে বের হয়। তাকে আনতে পরিবারের সবাই জেলা কারাগারের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় আমাদের সবার সামনে থেকে রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের একটি দল জামাল পত্তনদারকে ফের আটক করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। আমার ছেলেকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মারপিট করে বাম পা ভেঙ্গে ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনে একটি ও ডাকাতির প্রস্তুতির আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। দুইটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে রাজবাড়ীর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

জামালের বড় ভাই আবদুস সালাম পত্তনদার দাবি করেন, জামাল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে রক্ষা পেতে পলাতক অবস্থায় ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফরিদপুরের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ২৬ এপ্রিল মিথ্যা মামলায় জড়িত করে। ওই মামলায় ১ বছর ৪ মাস জেল খাটার পর ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করলে ১৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়।

জামালের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জামিন পেয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে রাজবাড়ী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পায়। তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিপন হত্যা মামলা দেয়া হয়। অথচ ওই সময় জামাল যশোর শহরে থেকে একটি কারখানায় কাজ করতো। যার প্রমাণ সেখানকার সিসি ক্যামেরায় তার উপস্থিতি রয়েছে।

পরিবারের সবার আশঙ্কা কারাগারে বন্দি জামাল আবারো জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হলে তাকে আবার পুলিশ গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এমনকি প্রাণনাশের মতো ক্ষতি করতে পারে। তাই অবিলম্বে আমরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি না করতে সবার প্রতি আবেদন করছি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন