‘ও বাবা তুমি জেগে ওঠো, আমরা শীতের জামা চাই না’
jugantor
‘ও বাবা তুমি জেগে ওঠো, আমরা শীতের জামা চাই না’

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫৩:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

সন্তানদের গরম কাপড়ের আবদার পূরণ করতে সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন ভ্যানচালক মতিউর রহমান। বাড়তি টাকা রোজগার করে সন্তানদের জন্য শীতের পোশাক কিনেছিলেন। কিনেছিলেন চাল, ডাল, তরি-তরকারিও।

কিন্তু সে পোশাক ও খাবার নিয়ে বাড়ি যেতে পারলেন না তিনি। দ্রুতগতির এক সিএনজি তার প্রাণ কেড়ে নিল।

আর সন্তানদের আবদার এখন আহাজারিতে পরিণত হয়েছে। তারা এখন আর শীতে পোশাক চায় না, চায় তাদের বাবাকে ফিরে পেতে। ভ্যানচালক বাবার দুই সন্তানের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ধামরাইয়ের আকাশ-বাতাস। হাসপাতালের লোকজনও তাদের চোখের পারি ধরে রাখতে পারেনি।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-কালামপুর-মির্জাপুর আঞ্চলিক সড়কের জালসা এলাকায় বেপরোয়া গতির সিএনজির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ভ্যানচালক মতিউর রহমান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মতিউর রহমানের এক শিশু ছেলে ও এক মেয়ে বহুদিন হয় বায়না ধরেছে শীতের গরম কাপড়ের জন্য। সন্তানদের বায়না পূরণের জন্য প্রতিদিনই বাড়তি পরিশ্রম করছিলেন ভ্যানচালক বাবা মতিউর রহমান।

অন্য দিনের মতো শুক্রবার ভোরে ভ্যান গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান ভ্যানচালক মতিউর রহমান। দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তিনি তার কাঙ্ক্ষিত অর্থ জোগাড় করতে সক্ষম হন। মনের আনন্দে তিনি ছেলে ও মেয়ের জন্য শীতের দুটি গরম কাপড় ও চাল ডালসহ কিছু তরি-তরকারিও কিনেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাওয়ালীপাড়া বাজার থেকে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। আঞ্চলিক সড়কের জালসা এলাকায় পৌঁছলে রাত পৌনে ৯টার দিকে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে আসা একটি সিএনজির ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাওয়ালীপাড়া বাজার সীমান্ত জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে তিনি মারা যান। এরপরও ওই হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মতিউর রহমান উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের আমছিমুর গ্রামের মো. মিয়াব আলীর ছেলে।

খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওই শিশু সন্তান দুইজন ওই হাসপাতালে এসে বাবার লাশ জড়িয়ে ধরে বুকফাটা করুণ আর্তনাদে ভেঙে পড়ে।

হাউমাউ করে কাঁদছিল আর বলছিল, ‘ও বাবা তুমি জেগে ওঠো। আমরা আর তোমার কাছে শীতের জামা চাই না’... ইত্যাদি।

তাদের ক্রন্দনরোলে যেন আকাশ বাতাসও বারেক থমকে যায়। আর তাদের সান্ত্বনা দেয়ার মত ভাষা তো কারও মুখে নেই। সবাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে এ দৃশ্য অবলোকন করে।

কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা বলেন, ঘাতক সিএনজিটি খুঁজে বের করে চালককে আইনের আওতায় আনা হবে।

‘ও বাবা তুমি জেগে ওঠো, আমরা শীতের জামা চাই না’

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সন্তানদের গরম কাপড়ের আবদার পূরণ করতে সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন ভ্যানচালক মতিউর রহমান। বাড়তি টাকা রোজগার করে সন্তানদের জন্য শীতের পোশাক কিনেছিলেন। কিনেছিলেন চাল, ডাল, তরি-তরকারিও।

কিন্তু সে পোশাক ও খাবার নিয়ে বাড়ি যেতে পারলেন না তিনি। দ্রুতগতির এক সিএনজি তার প্রাণ কেড়ে নিল।

আর সন্তানদের আবদার এখন আহাজারিতে পরিণত হয়েছে। তারা এখন আর শীতে পোশাক চায় না, চায় তাদের বাবাকে ফিরে পেতে। ভ্যানচালক বাবার দুই সন্তানের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ধামরাইয়ের আকাশ-বাতাস। হাসপাতালের লোকজনও তাদের চোখের পারি ধরে রাখতে পারেনি।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-কালামপুর-মির্জাপুর আঞ্চলিক সড়কের জালসা এলাকায় বেপরোয়া গতির সিএনজির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ভ্যানচালক মতিউর রহমান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মতিউর রহমানের এক শিশু ছেলে ও এক মেয়ে বহুদিন হয় বায়না ধরেছে শীতের গরম কাপড়ের জন্য। সন্তানদের বায়না পূরণের জন্য প্রতিদিনই বাড়তি পরিশ্রম করছিলেন ভ্যানচালক বাবা মতিউর রহমান।
 
অন্য দিনের মতো শুক্রবার ভোরে ভ্যান গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান ভ্যানচালক মতিউর রহমান। দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তিনি তার কাঙ্ক্ষিত অর্থ জোগাড় করতে সক্ষম হন। মনের আনন্দে তিনি ছেলে ও মেয়ের জন্য শীতের দুটি গরম কাপড় ও চাল ডালসহ কিছু তরি-তরকারিও কিনেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাওয়ালীপাড়া বাজার থেকে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। আঞ্চলিক সড়কের জালসা এলাকায় পৌঁছলে রাত পৌনে ৯টার দিকে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে আসা একটি সিএনজির ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাওয়ালীপাড়া বাজার সীমান্ত জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে তিনি মারা যান। এরপরও ওই হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মতিউর রহমান উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের আমছিমুর গ্রামের মো. মিয়াব আলীর ছেলে।

খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওই শিশু সন্তান দুইজন ওই হাসপাতালে এসে বাবার লাশ জড়িয়ে ধরে বুকফাটা করুণ আর্তনাদে ভেঙে পড়ে।

হাউমাউ করে কাঁদছিল আর বলছিল, ‘ও বাবা তুমি জেগে ওঠো। আমরা আর তোমার কাছে শীতের জামা চাই না’... ইত্যাদি।

তাদের ক্রন্দনরোলে যেন আকাশ বাতাসও বারেক থমকে যায়। আর তাদের সান্ত্বনা দেয়ার মত ভাষা তো কারও মুখে নেই। সবাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে এ দৃশ্য অবলোকন করে।

কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক  মো. রাসেল মোল্লা বলেন, ঘাতক সিএনজিটি খুঁজে বের করে চালককে আইনের আওতায় আনা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন