শাকিল ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে
jugantor
শাকিল ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে

  দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  

২৬ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:১২:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

দাউদকান্দি উপজেলার শাকিল মিয়ার লাশ দেখে স্বজনদের আহাজারি
দাউদকান্দি উপজেলার শাকিল মিয়ার লাশ দেখে স্বজনদের আহাজারি

স্ত্রীর কাছে বলেছিলেন ফিরে আসবেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শাকিল মিয়া। তিনি ঠিকই ফিরে এসেছেন, কিন্তু পোড়া লাশ হয়ে।

জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে পোড়া লাশ হয়ে ফিরলেন শাকিল মিয়া। পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে দুই বছর আগে ভিনদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি।

রোববার ভোরে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পেন্নাই গ্রামে তার লাশ পৌঁছে। বেলা ১১টার দিকে পেন্নাই ঈদগাঁ মাঠে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শাকিলের পোড়া লাশ দেখে রিকশাচালক বাবা হোসেন মিয়া, মা সামসুন নাহার ও স্ত্রী শান্তা বেগম নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি। তাদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে।

স্বজনরা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের নিকটবর্তী পামব্রিজ (কেতলেহং) এলাকায় ২০ জানুয়ারি আসরের নামাজের পর একদল সন্ত্রাসী শাকিলের দোকানে ঢুকে লুটপাট চালায়। প্রতিবাদ করলে তাকে বেধড়ক মারধর করে কিলকে ভেতরে রেখেই পেট্রল ঢেলে দোকানঘরটিতে আগুন ধরিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন শাকিলকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের মৃত্যু হয়।

রোববার ভোরে শাকিলের লাশ পেন্নাই গ্রামে পৌঁছলে গোটা বাড়িই শোকে স্তব্ধ দেখা যায়।

দেড় বছরের মেয়ে সিনথিয়াকে কোলে নিয়ে শাকিলের স্ত্রী শান্তা আক্তার বিলাপ করছেন। বাবা হোসেন মিয়া কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মা সামছুন নাহার, একমাত্র বোন লিপি আক্তার অঝোরে কাঁদছেন।

শাকিলের বাবা হোসেন মিয়া বলেন, রিকশা চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছি। এখন আর রিকশা চালাতে পারি না, ‘যখন যে কাজ পাই, সে কাজ করি। তার ওপরে ঋণের বোঝা। কী করব বুঝতে পারছি না!’

শাকিলের স্ত্রী শান্তা আক্তার বলেন, মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা হয় শাকিলের। তিনি বলেছিলেন, তার ব্যবসা করতে খুবই ভয় লাগে। ঋণ শোধ হয়ে গেলে দেশে ফিরে আসবেন। আবার বাসের সুপারভাইজারের চাকরিতে যোগ দেবেন। ফিরে আসছেন ঠিকই, কিন্তু পোড়া লাশ হয়ে।

শাকিল ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে

 দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১১:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দাউদকান্দি উপজেলার শাকিল মিয়ার লাশ দেখে স্বজনদের আহাজারি
দাউদকান্দি উপজেলার শাকিল মিয়ার লাশ দেখে স্বজনদের আহাজারি

স্ত্রীর কাছে বলেছিলেন ফিরে আসবেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শাকিল মিয়া। তিনি ঠিকই ফিরে এসেছেন, কিন্তু পোড়া লাশ হয়ে।

জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে পোড়া লাশ হয়ে ফিরলেন শাকিল মিয়া। পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে দুই বছর আগে ভিনদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি।

রোববার ভোরে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পেন্নাই গ্রামে তার লাশ পৌঁছে। বেলা ১১টার দিকে পেন্নাই ঈদগাঁ মাঠে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শাকিলের পোড়া লাশ দেখে রিকশাচালক বাবা হোসেন মিয়া, মা সামসুন নাহার ও স্ত্রী শান্তা বেগম নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি। তাদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে।

স্বজনরা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের নিকটবর্তী পামব্রিজ (কেতলেহং) এলাকায় ২০ জানুয়ারি আসরের নামাজের পর একদল সন্ত্রাসী শাকিলের দোকানে ঢুকে লুটপাট চালায়। প্রতিবাদ করলে তাকে বেধড়ক মারধর করে কিলকে ভেতরে রেখেই পেট্রল ঢেলে দোকানঘরটিতে আগুন ধরিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন শাকিলকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের মৃত্যু হয়।

রোববার ভোরে শাকিলের লাশ পেন্নাই গ্রামে পৌঁছলে গোটা বাড়িই শোকে স্তব্ধ দেখা যায়।

দেড় বছরের মেয়ে সিনথিয়াকে কোলে নিয়ে শাকিলের স্ত্রী শান্তা আক্তার বিলাপ করছেন। বাবা হোসেন মিয়া কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মা সামছুন নাহার, একমাত্র বোন লিপি আক্তার অঝোরে কাঁদছেন।

শাকিলের বাবা হোসেন মিয়া বলেন, রিকশা চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছি। এখন আর রিকশা চালাতে পারি না, ‘যখন যে কাজ পাই, সে কাজ করি। তার ওপরে ঋণের বোঝা। কী করব বুঝতে পারছি না!’

শাকিলের স্ত্রী শান্তা আক্তার বলেন, মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা হয় শাকিলের। তিনি বলেছিলেন, তার ব্যবসা করতে খুবই ভয় লাগে। ঋণ শোধ হয়ে গেলে দেশে ফিরে আসবেন। আবার বাসের সুপারভাইজারের চাকরিতে যোগ দেবেন। ফিরে আসছেন ঠিকই, কিন্তু পোড়া লাশ হয়ে।