প্রধান আসামি মিনারসহ ১৬ জন খালাস

ফেনীর একরাম হত্যা মামলায় ৩৯ জনের ফাঁসি

  ফেনী প্রতিনিধি ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৫:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

একরাম হত্যা

ফেনীর বহুল আলোচিত ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি একরাম হত্যা মামলায় ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী মিনারসহ ১৬ জন খালাস পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন সকাল ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল হক এজলাসে ওঠেন। দুটি মামলার শুনানি শেষে বিকাল ৩টায় একরাম হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময় নির্ধারণ করে এজলাস ত্যাগ করেন। বিকালে বিচার কাজ শুরুর পূর্বেই আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।

ঘড়ির কাঁটায় যখন ৩টা জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল হক বিচারের এজলাসে উঠেন। বিচারক এজলাসে বসার পর পরই কারাগারে থাকা ৩৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ৩টা ১৫ মিনিটে বিচারক এ আলোচিত মামলার রায় পড়া শুরু করেন। ১৫ মিনিটের মধ্যে বিচারক রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন।

রায় ঘোষনার পর সরকারপক্ষের আইনজীবী পিপি হাফেজ আহম্মদ আদালতের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকা সাংবাবাদিকদের এ রায়ের বিষয়ে ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার পূর্বে বিচারক এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলেন, এ মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আসামিকে ইঙ্গিত করে কোনো স্বাক্ষ্য দেয়নি। কিন্তু মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি, মামলার আলামত ও ভিডিও ফুটেজ দেখে এ রায় দেয়া হয়েছে। এ রায়ের ফলে সমাজের অনাচার ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মন্তব্য করেন।

আদালত আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচন থেকে আসামিদের সঙ্গে নিহতের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পরিকল্পিতভাবে এক জন জনপ্রতিনিধিকে ষড়যন্ত্র করে দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল অফছার (জাহিদ হোসেন চৌধুরী) জিহাদ, ফেনী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেনী পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, আবিদুল ইসলাম আবিদ, এমরান হোসেন রাসেল প্রকাশ ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আজমীর হোসেন রায়হান, মো. শাহজালাল উদ্দিন শিপন, কাজী শাহনান মাহমুদ শানন, নুর উদ্দিন মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী সিফাত, জাহিদুল হাসেম সৈকত, আবু বক্কর ছিদ্দিক (বক্কর), আলমগীর (আলাউদ্দিন) আরমান হোসেন কাউছার, চৌধুরী মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন অনিক,ফেরদৌস মাহমুদ খাঁন হীরা,সজিব,পাংকু আরিফ (হুমায়ুন),ইসমাইল হোসেন,জসিম উদ্দিন নয়ন, মামুন, মো. সোহান চৌধুরী, মানিক, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, টিটু-১, নিজাম উদ্দিন আবু, রাহাত মো. এরফান (আমজাদ) টিটু-২, আরিফ (নাতি আরিফ), রাশেদুল ইসলাম রাজু-আটা রাজু-বাটা রাজু, রুবেল, বাবলু,শফিকুর রহমান ময়না, একরাম হোসেন (আকরাম),মহিউদ্দিন আনিস,মোসলেহ উদ্দিন আসিফ।

খালাস পেয়েছেন জেলা তাঁতি দলের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার, ফেনী পৌর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিষ্টার, আলমগীর (আলাউদ্দিন), সাইদুল করিম পাবন (পাপন), জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া, মো. বেলায়েত হোসেন (টুপি বেলা), মো. মাসুদ, আবদুর রহমান রউপ, ইকবাল, মো. শাখাওয়াত, শরিফুল জামিন (পিয়াস), কাদের, কালা (কালা মিয়া), মো. ইউনুছ ভূঁইয়া, শামীম (টপ শামীম), রিপন,ফারুক। এ মামলার অপর আসামি মো. সোহেল (রুটি সোহেল) র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

আলোচিত এ মামলায় জানিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন- এমরান হোসেন রাসেল (ইঞ্জিনিয়ার রাসেল), জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মো. নাফিস উদ্দিন (অনিক), মো. ইউনুছ ভূঁইয়া শামীম (টপ শামীম), আবিদুল ইসলাম আবিদ, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, নুরুল অফছার (জাহিদ হোসেন চৌধুরী) জিহাদ, অরমান হোসেন কাউসার, জসিম উদ্দিন নয়ন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে চার্জশিট ভুক্ত ১০ আসামি এবং জামিনে মুক্তি পেয়ে আট আসামি পলাতক রয়েছেন। পিপি জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ৩৯ জন আসামিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও প্রতি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থে দণ্ডিত করা হয়েছে। বাকি ১৬ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদেরকে বেকুসুর খালাসের আদেশ দেন।

ফাঁসির আদেশের কথা শুনে এজলাসে আসামিদের ও আদালত প্রাঙ্গনে থাকা স্বজনদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। এর মধ্যে মামুন নামের এক আসামি এজলাসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু বাদী বা নিহতের পরিবারের কোনো সদস্য আদালতে আসেননি। রায় ঘোষণার পর থেকে তাদের মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ, সাফাই সাক্ষীর জেরা শেষ হওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি সরকার পক্ষে ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ওইদিন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা দেন। ওইদিন আদালত পলাতক ১৯ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

পিপি হাফেজ আহম্মদ জানান. এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। স্বীকারোক্তি প্রদান করা ১৬ জনের মধ্যে হেলাল উদ্দিন নামে একজন পরে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এছাড়া মামলার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষীরাও একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ, গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্যে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে কুপিয়ে, গুলি করে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ফেনী জেলা তাঁতী দলের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×