মেয়েটা দোয়া চেয়ে বিমানে উঠল, তবে সৃষ্টিকর্তা কেন এমন করল?

  রাজশাহী ব্যুরো, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগঞ্জ ও রাবি প্রতিনিধি ১৩ মার্চ ২০১৮, ২০:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

বিমানে ওঠার আগে স্বামী রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসির সেলফি
বিমানে ওঠার আগে স্বামী রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসির সেলফি

বিধ্বস্ত বিমানে থাকা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসির স্বামী রাকিবুল ইসলাম মারা গেছেন। সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাকিবুলের মৃত্যু হয়।

আর সংকটাপন্ন অবস্থায় কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিক্ষিকা ইমরানা কবির। ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর তিনি শঙ্কামুক্ত কিনা তা বলা যাবে। ইমরানা কবিরের মামাশ্বশুরের বরাত দিয়ে রুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. মোহা. রফিকুল আলম বেগ মঙ্গলবার যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুপুরে (মঙ্গলবার) হাসির মামাশ্বশুরের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, হাসির শরীরের ৩৫ শতাংশ পুরোপুরি পুড়ে গেছে। শ্বাসনালিও বার্ন হয়েছে। বাম পাশে বড় ধরনের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন। ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। হাসির খোঁজখবর নিতে সোমবার রাতেই তার বিভাগের ব্যাচমেট লিমা স্বামীসহ কাঠমান্ডু গেছেন।

রুয়েট ভিসি আরও জানান, হাসির স্বামী রাকিবুল সোমবার রাতে মারা গেছেন। রাকিবুলও রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০৬ সিরিজের শিক্ষার্থী ছিলেন। লেখাপড়া শেষ করে তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালিতে। মৃত্যুর সংবাদ জানার পর রাকিবুলের মামাতো ভাই জুয়েল সোমবার রাতে নেপালে গেছেন।

আহত ইমরানা কবির ২০১৪ সালে রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। রাজশাহী নগরীর মোন্নাফের মোড় এলাকায় একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন তিনি। সেখানে তিনি একাই অবস্থান করতেন বলে জানান বাড়ির মালিক আসাদুল্লাহ রঞ্জু।

রঞ্জু জানান, হাসি ম্যাডাম ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আমাদের বাসায় ওঠেন। যতদূর জানি, উনার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। মাঝেমধ্যে তিনি রাজশাহীতে বেড়াতে আসেন। গত ৭ মার্চ ম্যাডাম গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে ঢাকায় যাচ্ছেন বলে জানিয়ে বাসা থেকে বের হন।

ইমরানা কবির হাসির বাবা হুমায়ন কবির পেশায় একজন ব্যাংকার। তিনি সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন। আহত ইমরানা কবিরের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরক্ষণে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলেন, ‘বাড়ির সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমাকে তো শক্ত থাকতেই হবে; তা না হলে ওর মা-বোনকে বাঁচাতে পারবো না। জামাইটা তো মারা গেছে। মেয়েটারও জানি না কি হবে? আমার আদরের হাসির পুরো শরীরটা নাকি পুড়ে গেছে। আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমার কোনো ছেলেসন্তান নেই। দুটি মেয়ে। হাসি বড়; ছোট মেয়ে তামান্না কবির ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে। হাসি পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। লেখাপড়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেধা দিয়েই হাসি রুয়েটে শিক্ষক হয়েছে। কোনো লবিং বা টাকা-পয়সা দেয়া লাগেনি। ছুটিতে নেপালে যাবে জানিয়ে ৭ তারিখে ঢাকা গেল। তারপরও কয়েক দফা কথা হয়েছে। ‘মেয়েটা দোয়া চেয়ে বিমানে উঠল, তবে সৃষ্টিকর্তা কেন এমনটি করল’ আমি তো ভালো দোয়াই করেছিলাম, সৃষ্টিকর্তা কেন তাহলে এমনটি করল!

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে ৭১ জন আরোহী নিয়ে নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি। ওই ফ্লাইটের মোট ৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে ৫১ জন মারা যান।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.