হার্টে ছিদ্র: ২ লাখ টাকা হলে বাঁচবে ছোট্ট আলী কদর
jugantor
হার্টে ছিদ্র: ২ লাখ টাকা হলে বাঁচবে ছোট্ট আলী কদর

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৫৩:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

আলী কদর

হাসিতে ভরা মুখ তিন বছর বয়সী আলী কদরের। সারাদিন ছুটে বেড়ানো, খেলাধুলা করে দিন কাটে শিশুটির। সমবয়সী অন্য শিশুরা যখন ক্লান্তিহীনভাবে খেলাধুলায় মত্ত থাকে, তখন মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে ছোট্ট আলী কদর।

শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, বুকে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয় তার। একমাত্র ছেলের অসুস্থতা ঘিরে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় দরিদ্র এ পরিবারটি। অসুস্থ ছেলের এমন মুখভরা হাসিতেও এখন মলিন মুখ বাবা-মায়ের।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামের ফল ব্যবসায়ী রুমন খন্দকার ও গৃহিণী রীমা খাতুনের একমাত্র ছেলে আলী কদর।

জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার পর শুরু হয় কবিরাজি ঝাড়ফুকের চিকিৎসা। কিন্তু রোগ সারার কোনো লক্ষণ না দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে শিশুটির। এর জন্য শিশুটির অপারেশন প্রয়োজন। লাগবে মোটা অঙ্কের টাকা। চিকিৎসকের এমন কথা শুনে চিন্তায় পড়েন বাবা-মা।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেল, খেলনা গাড়িতে চেপে উঠোনের মধ্যে ছোটাছুটি করছে আলী কদর। অপরিচিত লোকজন দেখলেই মুখ লুকায় শিশুটি। সন্তানের এমন দুরন্তপনা দেখেও মুখে হাসি নেই বাবা রুমনের।

কারণ পাশের ঘরেই যন্ত্রণায় কাতারাচ্ছেন ক্যান্সারে আক্রান্ত তার বাবা আবদুল কাদের। চাটমোহর রেলস্টেশনে ছোট্ট দোকানে ফলের ব্যবসা করে সংসার চালাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয় রুমনকে।

ধারদেনা ও জমানো কিছু টাকা ব্যয় করে বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার অভাবে একমাত্র ছেলে আলী কদরের হৃৎপিণ্ডের ফুটোর আকার বেড়ে চলেছে।

একদিকে বাবা, অন্যদিকে ছেলে কার চিকিৎসা করাবেন রুমন? এমন মানসিক চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাকে।

অপরদিকে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে অঝোরে কেঁদে চলেছেন মা রীমা খাতুন।

রুমন খন্দকার যুগান্তরকে জানান, জন্মের পর আলী কদর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই সে অসুস্থ হতে থাকে। কবিরাজ ও স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে দেখানো হয়।

রোগ না সারায় প্রথমে পাবনা, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ইকবাল বারীকে দিয়ে দেখানোর পর পরীক্ষা-নীরিক্ষার হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে।

পরে তার পরামর্শমতো ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে আলী কদরের সুস্থতার জন্য চিকিৎসক অপারেশনের কথা বলেন।

এর জন্য প্রয়োজন হবে দুই লাখ টাকা। পরে টাকার অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। চিকিৎসা না করাতে পারলে হয়তো ছেলেকে বাঁচাতে পারবেন না- এমন চিন্তায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা করাতে পারছেন না! তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মূলগ্রাম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কুদ্দুস রেজা যুগান্তরকে বলেন, পরিবারটি খুব অসহায়। একদিকে বাবা, অন্যদিকে ছেলের এমন বড় ধরনের রোগে পরিবারটি দিশাহারা হয়ে পড়েছে। অসহায় পরিবারটিকে সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশু আলী কদরের বাব-মা।

চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য এই নম্বরে- ০১৭২৫০৯৪৭১৩ (বিকাশ) যোগাযোগ করার আহ্বান জানান শিশু আলী কদরের বাবা রুমন খন্দকার।

হার্টে ছিদ্র: ২ লাখ টাকা হলে বাঁচবে ছোট্ট আলী কদর

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৫৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আলী কদর
আলী কদর। ছবি: যুগান্তর

হাসিতে ভরা মুখ তিন বছর বয়সী আলী কদরের। সারাদিন ছুটে বেড়ানো, খেলাধুলা করে দিন কাটে শিশুটির। সমবয়সী অন্য শিশুরা যখন ক্লান্তিহীনভাবে খেলাধুলায় মত্ত থাকে, তখন মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে ছোট্ট আলী কদর।

শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, বুকে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয় তার। একমাত্র ছেলের অসুস্থতা ঘিরে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় দরিদ্র এ পরিবারটি। অসুস্থ ছেলের এমন মুখভরা হাসিতেও এখন মলিন মুখ বাবা-মায়ের।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামের ফল ব্যবসায়ী রুমন খন্দকার ও গৃহিণী রীমা খাতুনের একমাত্র ছেলে আলী কদর।

জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার পর শুরু হয় কবিরাজি ঝাড়ফুকের চিকিৎসা। কিন্তু রোগ সারার কোনো লক্ষণ না দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে শিশুটির। এর জন্য শিশুটির অপারেশন প্রয়োজন। লাগবে মোটা অঙ্কের টাকা। চিকিৎসকের এমন কথা শুনে চিন্তায় পড়েন বাবা-মা।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেল, খেলনা গাড়িতে চেপে উঠোনের মধ্যে ছোটাছুটি করছে আলী কদর। অপরিচিত লোকজন দেখলেই মুখ লুকায় শিশুটি। সন্তানের এমন দুরন্তপনা দেখেও মুখে হাসি নেই বাবা রুমনের।

কারণ পাশের ঘরেই যন্ত্রণায় কাতারাচ্ছেন ক্যান্সারে আক্রান্ত তার বাবা আবদুল কাদের। চাটমোহর রেলস্টেশনে ছোট্ট দোকানে ফলের ব্যবসা করে সংসার চালাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয় রুমনকে।

ধারদেনা ও জমানো কিছু টাকা ব্যয় করে বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার অভাবে একমাত্র ছেলে আলী কদরের হৃৎপিণ্ডের ফুটোর আকার বেড়ে চলেছে।

একদিকে বাবা, অন্যদিকে ছেলে কার চিকিৎসা করাবেন রুমন? এমন মানসিক চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাকে।

অপরদিকে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে অঝোরে কেঁদে চলেছেন মা রীমা খাতুন।

রুমন খন্দকার যুগান্তরকে জানান, জন্মের পর আলী কদর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই সে অসুস্থ হতে থাকে। কবিরাজ ও স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে দেখানো হয়।

রোগ না সারায় প্রথমে পাবনা, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ইকবাল বারীকে দিয়ে দেখানোর পর পরীক্ষা-নীরিক্ষার হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে।

পরে তার পরামর্শমতো ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে আলী কদরের সুস্থতার জন্য চিকিৎসক অপারেশনের কথা বলেন।

এর জন্য প্রয়োজন হবে দুই লাখ টাকা। পরে টাকার অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। চিকিৎসা না করাতে পারলে হয়তো ছেলেকে বাঁচাতে পারবেন না- এমন চিন্তায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা করাতে পারছেন না! তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মূলগ্রাম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কুদ্দুস রেজা যুগান্তরকে বলেন, পরিবারটি খুব অসহায়। একদিকে বাবা, অন্যদিকে ছেলের এমন বড় ধরনের রোগে পরিবারটি দিশাহারা হয়ে পড়েছে। অসহায় পরিবারটিকে সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশু আলী কদরের বাব-মা।

চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য এই নম্বরে- ০১৭২৫০৯৪৭১৩ (বিকাশ)  যোগাযোগ করার আহ্বান জানান শিশু আলী কদরের বাবা রুমন খন্দকার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন