আমতলীতে পুলিশ সদস্যকে মারধর!
jugantor
আমতলীতে পুলিশ সদস্যকে মারধর!

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৫:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার তালতলী থানার পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেনকে যান্ত্রিক যান থ্রি-হুইলার সমিতির লাইনম্যান মো. আবু সালেহ মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত পুলিশ সদস্যকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা সড়কের হাসপাতাল এলাকার মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে।

এ ঘটনায় আমতলীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী লাইনম্যান আবু সালেহের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

জানা গেছে, তালতলী থানার পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেন শনিবার সকালে থানার ডাক নিয়ে আমতলী উপজেলা সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন।

ওই দিন বিকালে কাজ শেষে তালতলীতে ফেরার জন্য আমতলী-কুয়াকাটা সড়কের আমতলী হাসপাতাল সংলগ্ন মাহেন্দ্র স্ট্যান্ড থেকে মাহেন্দ্র গাড়িতে উঠেন। ওই গাড়ির চালকের পিছনে চারজন যাত্রীর সিট রয়েছে। ওই সিট পূরণ হলেও যান্ত্রিক যান থ্রি-হুইলার সমিতির লাইনম্যান মো. আবু সালেহ ওই গাড়ির চারজনের সিটে আরও একজন যাত্রী তুলে দিতে চেষ্টা করে।

এ সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য জাকির হোসেন বেশি যাত্রী উঠনোর প্রতিবাদ করেন। পুলিশ সদস্য লাইনম্যান আবু সালেহের এ নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয় সে। একপর্যায়ে আবু সালেহ তার সহযোগীদের নিয়ে পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনকে বেধরক মারধর করে। পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও সে ক্ষ্যান্ত হয়নি।

পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আমতলীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলাম ও আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনার পরপরই লাইনম্যান আবু সালেহ এলাকা থেকে পালিয়েছে। এ দিকে লাইনম্যান আবু সালেহকে রক্ষায় একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, যাত্রী বেশি উঠানোর প্রতিবাদ করলেই লাইনম্যান আবু সালেহ পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনকে মারধর শুরু করে। পুলিশ পরিচয় দেয়ার পরও সে ক্ষ্যান্ত হয়নি।

তারা আরও বলেন, লাইনম্যান আবু সালেহ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন নৈরাজ্য করে আসছে। তারা মাহেন্দ্র গাড়িচালক, লাইনম্যান ও সংশ্লিষ্টদের নৈরাজ্য থেকে রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পুলিশ সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমি তালতলীতে যাওয়ার জন্য একটি মাহেন্দ্র গাড়িতে উঠে বসি। ওই গাড়ির চালকের পিছনে চারজন যাত্রী বসার সিট রয়েছে। লাইনম্যান আবু সালেহ ওই চারজনের সিটে পাঁচজন যাত্রী বসানোর চেষ্টা করে। আমি এর প্রতিবাদ করলেই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। আমি আমার পরিচয় দেয়ার পরই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।

লাইনম্যান আবু সালেহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

বরগুনা জেলা যান্ত্রিক যান থ্রিহুইলার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর পরই আবু সালেহ পালিয়েছে। তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হবে।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলীতে পুলিশ সদস্যকে মারধর!

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার তালতলী থানার পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেনকে যান্ত্রিক যান থ্রি-হুইলার সমিতির লাইনম্যান মো. আবু সালেহ মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত পুলিশ সদস্যকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা সড়কের হাসপাতাল এলাকার মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে।

এ ঘটনায় আমতলীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী লাইনম্যান আবু সালেহের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

জানা গেছে, তালতলী থানার পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেন শনিবার সকালে থানার ডাক নিয়ে আমতলী উপজেলা সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন।

ওই দিন বিকালে কাজ শেষে তালতলীতে ফেরার জন্য আমতলী-কুয়াকাটা সড়কের আমতলী হাসপাতাল সংলগ্ন মাহেন্দ্র স্ট্যান্ড থেকে মাহেন্দ্র গাড়িতে উঠেন। ওই গাড়ির চালকের পিছনে চারজন যাত্রীর সিট রয়েছে। ওই সিট পূরণ হলেও যান্ত্রিক যান থ্রি-হুইলার সমিতির লাইনম্যান মো. আবু সালেহ ওই গাড়ির চারজনের সিটে আরও একজন যাত্রী তুলে দিতে চেষ্টা করে।

এ সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য জাকির হোসেন বেশি যাত্রী উঠনোর প্রতিবাদ করেন। পুলিশ সদস্য লাইনম্যান আবু সালেহের এ নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয় সে। একপর্যায়ে আবু সালেহ তার সহযোগীদের নিয়ে পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনকে বেধরক মারধর করে। পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও সে ক্ষ্যান্ত হয়নি।

পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আমতলীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল  ইসলাম ও আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনার পরপরই লাইনম্যান আবু সালেহ এলাকা থেকে পালিয়েছে। এ দিকে লাইনম্যান আবু সালেহকে রক্ষায় একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, যাত্রী বেশি উঠানোর প্রতিবাদ করলেই লাইনম্যান আবু সালেহ পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনকে মারধর শুরু করে। পুলিশ পরিচয় দেয়ার পরও সে ক্ষ্যান্ত হয়নি।

তারা আরও বলেন, লাইনম্যান আবু সালেহ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন নৈরাজ্য করে আসছে। তারা মাহেন্দ্র গাড়িচালক, লাইনম্যান ও সংশ্লিষ্টদের নৈরাজ্য থেকে রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পুলিশ সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমি তালতলীতে যাওয়ার জন্য একটি মাহেন্দ্র গাড়িতে উঠে বসি। ওই গাড়ির চালকের পিছনে চারজন যাত্রী বসার সিট রয়েছে। লাইনম্যান আবু সালেহ ওই চারজনের সিটে পাঁচজন যাত্রী বসানোর চেষ্টা করে। আমি এর প্রতিবাদ করলেই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। আমি আমার পরিচয় দেয়ার পরই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।

লাইনম্যান আবু সালেহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

বরগুনা জেলা যান্ত্রিক যান থ্রিহুইলার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর পরই আবু সালেহ পালিয়েছে। তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হবে।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সদস্য জাকির হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন