‘আমি কী বাঁচব না, আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না’
jugantor
‘আমি কী বাঁচব না, আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না’

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৩৭:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনার চাটমোহরে মা ও স্বামীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে দগ্ধ রুনা খাতুন

চার বছর বয়সী মেয়ের খুব ক্ষুধা পেয়েছিল। শীতের সকালে তাড়াহুড়া করে রান্না করার পর মেয়েকে চুলার পাশে দাঁড়িয়ে খাবার খাইয়ে দিচ্ছিলেন রুনা খাতুন।

এ সময় চুলা থেকে পরনের শাড়িতে কখন যে আগুন ধরে যায় বুঝে উঠতে পারেননি। পা থেকে কোমর পর্যন্ত পুড়ে যায় তার।

মাস দেড়েক আগে এমন ঘটনা ঘটলেও এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিন্যাবাড়ি গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী রুনা খাতুন।

টাকার অভাবে এখন চলছে কবিরাজের পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা। আস্তে আস্তে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে ঘা। ব্যথার যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করছেন।

রুনা খাতুন আর্তনাদের সুরে বলেন, ‘আমার বাবা পাগল। আমাদের টাকা নেই। চিকিৎসায় স্বামীরও তেমন আগ্রহ নেই। আমি কী বাঁচব না? আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না! আমার মেয়ের জন্য হলেও আমাকে বাঁচান।’

সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আগুনে দগ্ধ রুনা খাতুন ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছেন। অসহ্য যন্ত্রণায় বুকফাটা আর্তনাদ করছেন তিনি। পাশেই দাঁড়িয়ে মা রোজিনা খাতুন চেষ্টা করছেন মেয়েকে সান্ত্বনা দেয়ার।

কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। সারা দিন ঘরের কোণে রুনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শরীরে দেখা দিয়েছে রক্তশূন্যতা। শুয়ে থাকতে পারেন না, বসতেও পারেন না। দগদগে ঘায়ের যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতেও পারেন না।

বাবা জুলমত হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী। রুনার দিনমজুর স্বামী যা উপার্জন করেন সেই টাকা দিয়ে টেনেটুনে কোনোমতে সংসার চলে। টাকার অভাবে এখন চলছে কবিরাজের পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা। আস্তে আস্তে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে ঘা।

ওষুধ কেনার টাকা নেই! অথচ অসহায় এই পরিবারটির পাশে কেউ নেই! চিকিৎসার অভাবে ঘরে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন অগ্নিদগ্ধ রুনা খাতুন।

এ ব্যাপারে নিমাউচাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন যুগান্তরকে বলেন, আসলেই পরিবারটি খুব অসহায়। আমি ঘটনার পর সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। কিন্তু মেয়েটির (রুনা) উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

দগ্ধ রুনা খাতুনের মা রোজিনা খাতুন যুগান্তরকে জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠান।

রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পর রুনার দগ্ধ অবস্থা দেখে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। কিন্তু গাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসার টাকা না থাকায় তাকে (রুনা) বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়।

মেয়েকে (রুনা) ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে সহযোগীতার জন্য ০১৭৫৯৫১৯১৬৪ ও বিকাশ- ০১৭২৮৩৬৫৬৩৬ নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো।

‘আমি কী বাঁচব না, আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না’

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পাবনার চাটমোহরে মা ও স্বামীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে দগ্ধ রুনা খাতুন
পাবনার চাটমোহরে মা ও স্বামীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে দগ্ধ রুনা খাতুন। ছবি: যুগান্তর

চার বছর বয়সী মেয়ের খুব ক্ষুধা পেয়েছিল। শীতের সকালে তাড়াহুড়া করে রান্না করার পর মেয়েকে চুলার পাশে দাঁড়িয়ে খাবার খাইয়ে দিচ্ছিলেন রুনা খাতুন।

এ সময় চুলা থেকে পরনের শাড়িতে কখন যে আগুন ধরে যায় বুঝে উঠতে পারেননি। পা থেকে কোমর পর্যন্ত পুড়ে যায় তার।

মাস দেড়েক আগে এমন ঘটনা ঘটলেও এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিন্যাবাড়ি গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী রুনা খাতুন।

টাকার অভাবে এখন চলছে কবিরাজের পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা। আস্তে আস্তে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে ঘা। ব্যথার যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করছেন।

রুনা খাতুন আর্তনাদের সুরে বলেন, ‘আমার বাবা পাগল। আমাদের টাকা নেই। চিকিৎসায় স্বামীরও তেমন আগ্রহ নেই। আমি কী বাঁচব না? আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না! আমার মেয়ের জন্য হলেও আমাকে বাঁচান।’

সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আগুনে দগ্ধ রুনা খাতুন ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছেন। অসহ্য যন্ত্রণায় বুকফাটা আর্তনাদ করছেন তিনি। পাশেই দাঁড়িয়ে মা রোজিনা খাতুন চেষ্টা করছেন মেয়েকে সান্ত্বনা দেয়ার।

কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। সারা দিন ঘরের কোণে রুনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শরীরে দেখা দিয়েছে রক্তশূন্যতা। শুয়ে থাকতে পারেন না, বসতেও পারেন না। দগদগে ঘায়ের যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতেও পারেন না।

বাবা জুলমত হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী। রুনার দিনমজুর স্বামী যা উপার্জন করেন সেই টাকা দিয়ে টেনেটুনে কোনোমতে সংসার চলে। টাকার অভাবে এখন চলছে কবিরাজের পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা। আস্তে আস্তে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে ঘা।

ওষুধ কেনার টাকা নেই! অথচ অসহায় এই পরিবারটির পাশে কেউ নেই! চিকিৎসার অভাবে ঘরে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন অগ্নিদগ্ধ রুনা খাতুন।

এ ব্যাপারে নিমাউচাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন যুগান্তরকে বলেন, আসলেই পরিবারটি খুব অসহায়। আমি ঘটনার পর সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। কিন্তু মেয়েটির (রুনা) উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।  

দগ্ধ রুনা খাতুনের মা রোজিনা খাতুন যুগান্তরকে জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠান।

রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পর রুনার দগ্ধ অবস্থা দেখে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। কিন্তু গাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসার টাকা না থাকায় তাকে (রুনা) বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়।

মেয়েকে (রুনা) ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।  

এ ব্যাপারে সহযোগীতার জন্য  ০১৭৫৯৫১৯১৬৪ ও বিকাশ- ০১৭২৮৩৬৫৬৩৬  নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন