‘লাল কালিতে হলদে চিঠির আনন্দ বিলাস’

  কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

‘লাল কালিতে হলদে চিঠির আনন্দ বিলাস’

বসন্ত এসে গেছে। সঙ্গে নিয়ে এসেছে ভালোবাসা দিবস। যান্ত্রিক সভ্যতার এইযুগেও ঋতুরাজ বসন্ত বাঙালির জীবনে আসে প্রকৃতির শাশ্বত রূপ নিয়ে।

ঋতুরাজ বসন্ত নিয়ে বাংলা সাহিত্যে জীবনধর্মী লেখায়, কবি , সাহিত্যিকরা লিখেছেন অজস্র কবিতা,গান- উপন্যাস। প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও পালিত হয়। শহরকেন্দ্রিক সভ্যাতায় বসন্ত বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা উদ্যাপনের আঁচ লেগেছে আজ গ্রাম বাংলায়ও।

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর বিখ্যাত কবিতায় যেমনটি লেখা হয়েছে, ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক /আজ বসন্ত।’এই চরণের সঙ্গে মিল রেখে কেশবপুর পাবলিক ময়দানে আয়োজন করা হয়েছে পহেলা ফাল্গুন বসন্ত উৎসব।

লাল কালিতে ছাপা হলুদ চিঠিতে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে সর্বসাধারণকে। কেশবপুর বসন্ত বরণ উদ্যাপন পর্ষদের প্রধান পৃষ্টপোষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান পপি।

বিকাল ৩টা ১৫মিনিটে শুরু হয় অতিথি বরণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শোভা যাত্রা ,নাচ,গান,আবৃত্তি ও বাসন্তী শুভেচ্ছা চলে বিকাল জুড়ে। পহেলা ফাল্গুনের সঙ্গে ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় বসন্ত বরণ এবার ভিন্ন মাত্রা পায়।

পাবলিক মাঠে বসন্তবরণে এসেছেন কিশোর, কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ। পরনে হলুদ আর লাল,সাদা মিশ্রিত পোশাক। প্রতিটি মানুষের হাতে ফুল।

এলাকার একমাত্র ফুল চাষী অঞ্জুয়ারা সরকারের বাগানের সব ফুল বিক্রি হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

যদিও প্রকৃতি এখনও পুরোপুরি সাজেনি বসন্তের আলপনায়। দক্ষিনের বাতাস বইছে না। পাতা ঝরা শেষে বৃক্ষে ধরছে কচি পাতা, আমের মুকুল আসছে। ঝরা পাতার মতো গ্রামের হতদরীদ্র মানুষের জীবনের ভালোবাসা জঠরজ্বালা নিবারণের কাছে হেরে যায় বার বার।

বসন্তের কোকিলের ডাক প্রকৃতিতে। ভালবাসা দিবসের সঙ্গে ‘বসন্ত এখন জাগ্রত দ্বারে।’ কেশবপুর পাবলিক মাঠের পাশে শহীদ মিনার ছুঁয়ে পলাশ গাছটির কুড়ি এখন ফুল ফোঁটার অপেক্ষায়। তার পাশে শত শত মানুষ ভালোবাসার রঙ্গে রঞ্জিত পাবলিক মাঠ।

রকমফেরে ভালোবাসা পেয়েছে শতরুপ। কোনো কোনো বাবা মা এসেছেন সন্তানদের নিয়ে। ভালোবাসার এ এক চীরন্তন রূপ।

কালিচরণপুর গ্রাম কেশবপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র। সেখান থেকে বসন্ত বরণে এসেছেন বিথী সরকার। সঙ্গে তার মেয়ে। তিনি বলেন,‘ আমাদের প্রতিটি বাড়িতে সকাল সন্ধ্যায় গানের রেওয়াজ (অনুশীলন) চলে। বসন্তে চলে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

বেগমপুর গ্রাম থেকে এসেছেন মশিয়ার রহমান লাল পাঞ্জাবি পরে। পেশায় শিক্ষক। তিনি বলেন , ‘ভালোবাসা না থাকলে এক মুহূর্তের জন্য পৃথিবী অচল। এ কারণে ভালোবাসা দিবস পালন করা হয়। ’

কেশবপুর বসন্তবরণ উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান বলেন, যশোর শহরের বাইরে কেশবপুরে বসন্তবরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সর্বস্তরের মানুষ এই দিন টিকে শত দুঃখ কষ্ট ভুলে কেশবপুর পাবলিক মাঠে হাজির হয়।’

তবে সব আয়োজনের মাঝে শিশু শিল্পীদের কন্ঠে কবিগুরুর গান‘ আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোঁটে / এত বাঁশি বাজে এত পাখি গায় ’ সুরের মুর্ছনা আবেগপ্রবণ বাঙলির জীবনের সব দুঃখ, জীবনের শূন্যতা ভুলিয়ে দেয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×