চীনের করোনাভাইরাসে দিশেহারা রামপালের চাষীরা

  সুজন মজুমদার, রামপাল, বাগেরহাট ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

কাঁকড়ার খামার
কাঁকড়ার খামার

চীনে করোনাভাইরাসের কারণে কাঁকড়া রফতানি বন্ধ রেখেছে সরকার। ভরা মৌসুমে কাঁকড়া রফতানি বন্ধে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাগেরহাটের চাষীরা। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকদেরও দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

রফতানি বন্ধ থাকায় সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি চাষী, ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরাও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। রফতানি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে কাঁকড়া চাষ বন্ধ ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে দাবি চাষীদের।

এ দিকে আতংকিত না হয়ে ধৈর্য্ ধরার আহ্বান জানিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ।

দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় কাঁকড়ার চাষ হয়ে থাকে। বাগেরহাটে সাধারণত শিলা জাতের কাঁকড়ার চাষ হয়। কম জমি ও স্বল্প সময়ে কাঁকড়া চাষ করা যায়। চিংড়ির তুলনায় কাঁকড়ার রোগব্যাধিও কম। সব মিলিয়ে অন্যান্য মাছ থেকে কাঁকড়া চাষে ঝুঁকি কম হওয়ায় একদশক ধরে বাগেরহাটে কয়েক হাজার কাঁকড়া চাষী সৃষ্টি হয়েছে। চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চাষীও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাগেরহাটের সাত উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৭৭৮টি কাঁকড়ার খামার রয়েছে। গেল বছর ২ হাজার ৩২ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়েছে এ সব খামার থেকে। এ ছাড়া ৫৯৭ মেট্রিক টন কাঁকড়া প্রাকৃতিক উৎস্ থেকে আহরণ করেছে জেলেরা। জেলায় উৎপাদিত এ সব কাঁকড়ার ৮০ শতাংশ চীনে রফতানি করা হতো।

প্রতিবছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সিংহভাগ কাঁকড়া রফতানি হতো। কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ২৩ জানুয়ারি থেকে কাঁকড়া রফতানি বন্ধ রয়েছে চীনে। যার ফলে স্থানীয় ডিপো মালিকরা কাঁকড়া কেনা বন্ধ করে রেখেছেন।

এ দিকে খামারে বড় হয়ে যাওয়া পূর্ণ বয়স্ক কাঁকড়া মারা গেলেও ধরতে পারছে না চাষীরা। কারণ স্থানীয় বাজারে দামি কাঁকড়ার চাহিদা নেই বললেই চলে। তাই চোখের সামনে নিজের মূল্যবান সম্পদ মরলেও কিছুই করতে পারছেন না চাষীরা।

এ দিকে করোনাভাইরাসের কারণে ২৩ জানুয়ারির আগে ক্রয় করে রাখা কাঁকড়া ডিপোতে থেকে পচলেও বিক্রি করতে পারছেন না মালিকরা। রফতানিকারকরাও রয়েছেন বিপদে।

কুন্তল ইজারাদার, পিনাক মজুমদার, আব্দুল আজিজসহ রামপাল উপজেলার কয়েকজন কাঁকড়া চাষী বলেন, চীনের নববর্ষ উপলক্ষে কাঁকড়ার দাম অনেক বৃদ্ধি পায়। তাই আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে কাঁকড়া ক্রয় করে খামারে মজুদ করেছিলাম। যখন বিক্রির উপযোগী হল, তখনই চীনে রফতানি বন্ধের কারণে ডিপো মালিক ও ব্যবসায়ীরা কাঁকড়া ক্রয় বন্ধ করে দিল। এখন পূর্ণবয়স্ক এই কাঁকড়া কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

রুবেল, আলমগীর, অনিমেশ মণ্ডল বলেন, যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তাতে কাঁকড়া বিক্রি করে লাভ তো দূরে থাক। চালান বাঁচবে না। যে কাঁকড়া ৫০০ টাকা কিনে চাষ করা হয়েছে তা ২০০ টাকার কম দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ঘেরে থাকা পূর্ণবয়স্ক কাঁকড়া মরতে শুরু করেছে। ১৫ দিনের মধ্যে এ সব কাঁকড়া বিক্রি না করতে পারলে সব মরে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। ব্যাংক, এনজিও এবং স্থানীয়ভাবে ঋণ করে কাঁকড়া চাষ করি। এ অবস্থা থাকলে পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে।

রামপাল থানা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, চীনের নববর্ষকে কেন্দ্র কলে প্রচুর পরিমাণ কাঁকড়া ক্রয় করা হয়েছিল। কিন্তু রফতানি বন্ধ হওয়ায় অনেক কাঁকড়া মারা যাচ্ছে। এভাবে চললে রামপালের চাষী ও ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ কাঁকড়া সরবরাহ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজয় দাস বলেন, চীনসহ কয়েকটি দেশে কাঁকড়া রফতানি হতো, এর মধ্যে অধিকাংশ কাঁকড়া রফতানি হতো চীনে। করোনাভাইরাসের কারণে রফতানি বন্ধ হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা। এ নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে বাগেরহাট জেলার কাঁকড়া চাষীদের ৪০-৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। যা এ সব চাষী ও ব্যবসায়ীরা কোনোদিন মেটাতে পারবে না।

চীনের বাইরে অন্যান্য দেশে কাঁকড়ার নতুন বাজার সৃষ্টি করে চাষীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক বলেন, বাগেরহাটে উৎপাদিত কাঁকড়া চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, কোরিয়ায় রফতানি হতো। এর মধ্যে চীনেই রফতানি হয় ৮০ শতাংশ। হঠাৎ করে চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে চাষী ও ব্যবসায়ীরা যেমন বিপাকে পড়েছে। সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা চাষীদের ধৈর্য্ ধারণের পরামর্শ দিচ্ছি।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নতুন বাজার সৃষ্টির বিষয়েও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১২৩ ৩৩ ১২
বিশ্ব ১৩,১০,১০২২,৭৫,০৪০৭২,৫৫৭
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×